Friday , 14 December 2018
আপডেট
Home » আন্তর্জাতিক » ‘দেশ’ হতে পারবে কাতালোনিয়া?
‘দেশ’ হতে পারবে কাতালোনিয়া?

‘দেশ’ হতে পারবে কাতালোনিয়া?

আজকের প্রভাত ডেস্ক

 

ক্লাব ফুটবল আর বিশ্বসেরা লিওনেল মেসির কল্যাণে বার্সেলোনা শহরের নামটি বিশ্ববাসীর কাছে অচেনা নয়। স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাতালোনিয়ার প্রধান রাজ্য বার্সেলোনা। এজন্য বার্সেলোনাবাসীদের কাতালান বলেও ডাকা হয়। স্পেনের অধীনে থাকা এই অঞ্চলটি গত ১লা অক্টোবর গণভোটের আয়োজন করে । ৯০ শতাংশ ভোটার কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিলে গণভোটকে ঘিরে জটিলতা তৈরি হয়। বহু ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া আর জটিলতার পর গত ২৭শে অক্টোবর শুক্রবার স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে কাতালোনিয়া। পাল্টা জবাবে কাতালোনিয়ায় প্রত্যক্ষ শাসন জারি করেছে স্পেন। এর মধ্য দিয়ে কাতালোনিয়া সংকটে চড়ল আরেক ধাপ পারদ।
জেনে নেওয়া যাক কাতালোনিয়া নিয়ে চলমান জটিলতা সম্পর্কে:

কাতালোনিয়া
এই অঞ্চলের ইতিহাস প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো। অঞ্চলটি একসময় রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে ছিলো। মধ্যযুগে প্রচুর দূর্গ থাকায় কাতালান অঞ্চলটিকে দূর্গের শহর বলা হত। আয়তনে বাংলাদেশের পাঁচ ভাগের এক ভাগ হলেও কাতালোনিয়ার জনসংখ্যা মাত্র ৭৫ লাখ যা সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যার সমান। স্পেনের মোট জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ এই কাতালোনিয়ায়। এর রাজধানী বার্সেলোনা বিশ্বের অত্যন্ত জনপ্রিয় শহরগুলোর একটি, ফুটবল এবং একই সাথে পর্যটনের কারণে। কাতালোনিয়ার নিজস্ব ভাষা কাতালান, এছাড়া স্প্যানিশেরও চল আছে। স্বায়ত্বশাসতি কাতালোনিয়ার নিজস্ব পুলিশ বাহিনী আছে এবং স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবার মতো জন পরিষেবাগুলোও এই অঞ্চল বহু আগে থেকে নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে।
সংকটের সূত্রপাত
সংবিধানে কাতালোনিয়াকে দেওয়া অনেক ক্ষমতা পরে স্পেনের সাংবিধানিক আদালত বাতিল করে দেয় যা কাতালোনিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। স্বায়ত্তশাসন কাটছাঁট করার ফলে ক্ষুব্ধ হয় কাতালানরা, এর সাথে যুক্ত হয় বছরের পর বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক মন্দা, অতিরিক্ত করারোপ, সরকারি খরচ কমানো। এর প্রক্ষেতিে ২০১৪ সালে অনানুষ্ঠানিক-ভাবে স্বাধীনতার প্রশ্নে একটি গণভোটের আয়োজন করে যাতে স্বাধীনতার পক্ষে গন রায় আসে কিন্তু আইনি বৈধতা না থাকায় এটি ফলপ্রসু হয়না। গত বছর কাতালান পার্লামেন্টে কার্লোস পুজডেমনের নেতৃত্বে গণভোট বিষয়ক আইন তৈরি হয় যার প্রেক্ষিতে এ বছরের ১লা অক্টোবর গণভোটের আয়োজন করে কাতালোনিয়া। গণভোটে ২৩লাখ
ভোটারের ৯০ শতাংশ ভোট দিয়েছিল কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে। ভোটগ্রহণের দিন পুলিশের আচরণ, ভোটারদের ওপর লাঠিচার্জ এবং টেনে হিঁচড়ে ব্যালট বাক্সের কাছ থেকে সরিয়ে নেয়ার ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয় এ নিয়ে। এদিকে ৯০ শতাংশ ভোটার কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে রায় দেওয়ায় এটি অনুমোদন করে কাতালোনিয়ার পার্লামেন্ট। তবে স্পেনের সাংবিধানিক আদালত এই পার্লামেন্টকে বরখাস্ত করে এবং স্পেন এই গণভোটকে বেআইনি ও অসাংবিধানিক হিসেবে অভিহিত করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭শে অক্টোবর কাতালান পার্লামেন্ট স্বাধীনতা ঘোষণা করে। পার্লামেন্টে স্বাধীনতার পক্ষে ৭০ টি ভোট পড়ে, বিপক্ষে পড়ে ১০ টি। এই ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে গত ২৮শে অক্টোবর স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে কেন্দ্রীয় শাসন জারি করেছে স্পেন। ফলে এখন স্পেন ও কাতালোনিয়া মুখোমুখি।
বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া
স্পেনের সরকার থেকে বলেছে যে, কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে আয়োজিত ১লা অক্টোবরের গণভোট অবৈধ ছিল। কাতালান পার্লামেন্টে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রশ্নে ভোট হওয়ায় কাতালোনিয়া অঞ্চলে প্রত্যক্ষ শাসন জারি করার বিষয়টি স্পেনের সিনেট অনুমোদন করে। পরে জারিও করা হয় প্রত্যক্ষ শাসন। কিন্তু স্বাধীনতা ঘোষনার একদিনের মাথায় স্বায়ত্বশাসন উঠিয়ে আবারো কেন্দ্রীয় শাসন ফিরিয়ে আনে স্পেনে। ক্ষমতাধর দেশগুলোও স্পেনের সুরেই সুর মিলিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন পরাশক্তিরা কেউই স্বাধীন কাতালোনিয়াকে স্বীকৃতি দেবেনা বলে জানিয়েছে। ব্রেক্সিটের (ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া) পর আঞ্চলিক জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নকে
(ইইউ) আরেক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কারণ, ইইউ চায় না স্পেন থেকে বেরিয়ে স্বাধীন হোক কাতালোনিয়া। এছাড়া এই জটিলতা গৃহযুদ্ধে রূপ নেবে কি না—তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু এটি যে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল ও সামগ্রিকভাবে স্পেনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, সেটি নিশ্চিত। আবার এতে করে ইউরোভুক্ত অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। যেভাবে দ্রুত কাতালোনিয়া জটিলতার মোড় পাল্টাচ্ছে, কাতালানবাসীর ভাগ্যে সামনে কী আছে তা দেখার পালা।

 

ক্লাব ফুটবল আর বিশ্বসেরা লিওনেল মেসির কল্যাণে বার্সেলোনা শহরের নামটি বিশ্ববাসীর কাছে অচেনা নয়। স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাতালোনিয়ার প্রধান রাজ্য বার্সেলোনা। এজন্য বার্সেলোনাবাসীদের কাতালান বলেও ডাকা হয়। স্পেনের অধীনে থাকা এই অঞ্চলটি গত ১লা অক্টোবর গণভোটের আয়োজন করে । ৯০ শতাংশ ভোটার কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিলে গণভোটকে ঘিরে জটিলতা তৈরি হয়। বহু ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া আর জটিলতার পর গত ২৭শে অক্টোবর শুক্রবার স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে কাতালোনিয়া। পাল্টা জবাবে কাতালোনিয়ায় প্রত্যক্ষ শাসন জারি করেছে স্পেন। এর মধ্য দিয়ে কাতালোনিয়া সংকটে চড়ল আরেক ধাপ পারদ।
জেনে নেওয়া যাক কাতালোনিয়া নিয়ে চলমান জটিলতা সম্পর্কে:

কাতালোনিয়া
এই অঞ্চলের ইতিহাস প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো। অঞ্চলটি একসময় রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে ছিলো। মধ্যযুগে প্রচুর দূর্গ থাকায় কাতালান অঞ্চলটিকে দূর্গের শহর বলা হত। আয়তনে বাংলাদেশের পাঁচ ভাগের এক ভাগ হলেও কাতালোনিয়ার জনসংখ্যা মাত্র ৭৫ লাখ যা সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যার সমান। স্পেনের মোট জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ এই কাতালোনিয়ায়। এর রাজধানী বার্সেলোনা বিশ্বের অত্যন্ত জনপ্রিয় শহরগুলোর একটি, ফুটবল এবং একই সাথে পর্যটনের কারণে। কাতালোনিয়ার নিজস্ব ভাষা কাতালান, এছাড়া স্প্যানিশেরও চল আছে। স্বায়ত্বশাসতি কাতালোনিয়ার নিজস্ব পুলিশ বাহিনী আছে এবং স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবার মতো জন পরিষেবাগুলোও এই অঞ্চল বহু আগে থেকে নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে।
সংকটের সূত্রপাত
সংবিধানে কাতালোনিয়াকে দেওয়া অনেক ক্ষমতা পরে স্পেনের সাংবিধানিক আদালত বাতিল করে দেয় যা কাতালোনিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। স্বায়ত্তশাসন কাটছাঁট করার ফলে ক্ষুব্ধ হয় কাতালানরা, এর সাথে যুক্ত হয় বছরের পর বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক মন্দা, অতিরিক্ত করারোপ, সরকারি খরচ কমানো। এর প্রক্ষেতিে ২০১৪ সালে অনানুষ্ঠানিক-ভাবে স্বাধীনতার প্রশ্নে একটি গণভোটের আয়োজন করে যাতে স্বাধীনতার পক্ষে গন রায় আসে কিন্তু আইনি বৈধতা না থাকায় এটি ফলপ্রসু হয়না। গত বছর কাতালান পার্লামেন্টে কার্লোস পুজডেমনের নেতৃত্বে গণভোট বিষয়ক আইন তৈরি হয় যার প্রেক্ষিতে এ বছরের ১লা অক্টোবর গণভোটের আয়োজন করে কাতালোনিয়া। গণভোটে ২৩লাখ
ভোটারের ৯০ শতাংশ ভোট দিয়েছিল কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে। ভোটগ্রহণের দিন পুলিশের আচরণ, ভোটারদের ওপর লাঠিচার্জ এবং টেনে হিঁচড়ে ব্যালট বাক্সের কাছ থেকে সরিয়ে নেয়ার ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয় এ নিয়ে। এদিকে ৯০ শতাংশ ভোটার কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে রায় দেওয়ায় এটি অনুমোদন করে কাতালোনিয়ার পার্লামেন্ট। তবে স্পেনের সাংবিধানিক আদালত এই পার্লামেন্টকে বরখাস্ত করে এবং স্পেন এই গণভোটকে বেআইনি ও অসাংবিধানিক হিসেবে অভিহিত করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭শে অক্টোবর কাতালান পার্লামেন্ট স্বাধীনতা ঘোষণা করে। পার্লামেন্টে স্বাধীনতার পক্ষে ৭০ টি ভোট পড়ে, বিপক্ষে পড়ে ১০ টি। এই ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে গত ২৮শে অক্টোবর স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে কেন্দ্রীয় শাসন জারি করেছে স্পেন। ফলে এখন স্পেন ও কাতালোনিয়া মুখোমুখি।
বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া
স্পেনের সরকার থেকে বলেছে যে, কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে আয়োজিত ১লা অক্টোবরের গণভোট অবৈধ ছিল। কাতালান পার্লামেন্টে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রশ্নে ভোট হওয়ায় কাতালোনিয়া অঞ্চলে প্রত্যক্ষ শাসন জারি করার বিষয়টি স্পেনের সিনেট অনুমোদন করে। পরে জারিও করা হয় প্রত্যক্ষ শাসন। কিন্তু স্বাধীনতা ঘোষনার একদিনের মাথায় স্বায়ত্বশাসন উঠিয়ে আবারো কেন্দ্রীয় শাসন ফিরিয়ে আনে স্পেনে। ক্ষমতাধর দেশগুলোও স্পেনের সুরেই সুর মিলিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন পরাশক্তিরা কেউই স্বাধীন কাতালোনিয়াকে স্বীকৃতি দেবেনা বলে জানিয়েছে। ব্রেক্সিটের (ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া) পর আঞ্চলিক জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নকে
(ইইউ) আরেক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কারণ, ইইউ চায় না স্পেন থেকে বেরিয়ে স্বাধীন হোক কাতালোনিয়া। এছাড়া এই জটিলতা গৃহযুদ্ধে রূপ নেবে কি না—তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু এটি যে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল ও সামগ্রিকভাবে স্পেনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, সেটি নিশ্চিত। আবার এতে করে ইউরোভুক্ত অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। যেভাবে দ্রুত কাতালোনিয়া জটিলতার মোড় পাল্টাচ্ছে, কাতালানবাসীর ভাগ্যে সামনে কী আছে তা দেখার পালা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*