Sunday , 25 September 2022
আপডেট
Home » খেলাধুলা » বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের আবার‌ও চ্যাম্পিয়ন আবাহনী
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের আবার‌ও চ্যাম্পিয়ন আবাহনী

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের আবার‌ও চ্যাম্পিয়ন আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের আবার‌ও চ্যাম্পিয়ন জিতে নিলো ঢাকা আবাহনী লি:। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আবাহনী ২-০ গোলে হারায় অপর শিরোপা প্রত্যাশী দল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেডকে।
পৌষের দিনটা ছিল শীতলতায় পূর্ণ। কিন্তু আবাহনীর শিরোপা জেতায় স্টেডিয়ামে আসা তাদের সমর্থকদের সব শীতবোধ উধাও হয়ে যায়। গ্যালারি থেকে মাঠে নেমে এসে নিজেদের খেলোয়াড়দের কাঁধে তুলে উল্লাসে ফেটে পড়ে তারা। সবমিলিয়ে হাজার পাঁচেক দর্শক উপভোগ করেন খেলাটি।
নিজেদের ২১তম ম্যাচে এটা দ্য স্কাই ব্লু ব্রিগেডদের ষোড়শ জয়। পয়েন্ট ৫১। পক্ষান্তরে সমান ম্যাচে এটা ‘বেঙ্গল ইয়োলো’দের দ্বিতীয় হার। ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। এখন তারা নিজেদের শেষ ম্যাচে ফরাশগঞ্জকে হারালেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে না। ফলে রানার্সআপ হওয়ার জন্যই চেষ্টা করতে হবে তাদের।
পেশাদার লীগ নাম হওয়ার পর থেকে এবারের আসর নিয়ে বিপিএলে দশবারের মধ্যে ছয়বারই ট্রফি ওঠেছে আবাহনীর ঘরে। আর পেশাদার পূর্ব-যুগ মিলিয়ে এটা তাদের অষ্টাদশ শিরোপা। শেখ জামাল পেশাদার লীগে শিরোপা জিতেছে তিনবার।
টানা দু’বার লীগ শিরোপা জিতলো আবাহনী। এ মৌসুমে দুটি ট্রফি জিতলো তারা। এর আগে চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে (৩-১ গোলে) মৌসুমের শুরুতে ফেডারেশন কাপ জিতেছিল তারা। তার আগের মৌসুমেও ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা (আরামবাগকে ১-০ গোলে হারিয়ে)।
১৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ইমন মাহমুদের ফ্রি বক্সে ক্লিয়ার করেছে জামালের ডিফেন্ডাররা। ২২ মিনিটে সোহেল রানার কর্ণার বক্সে হেড দিয়ে ক্লিয়ার করেন শ্যামল মিয়া। আবারো কর্নার পায় আবাহনী। ২৩ মিনিটে সোহেল রানার কর্ণার বক্সে ক্লিয়ার করে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা। ফিরতি বলে আবারো বল পেয়ে ক্রস করেন সোহেল, দারুন ব্যাক হেডে জামালের জাল কাঁপান অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন চৌধুরী (১-০)।
আবাহনী গ্যালারীতে তখন আনন্দের বন্যা। ডিফেন্ডার হয়েও হাফ ডজন গোল করাটা কম কৃতিত্বের নয়। অনেক ফরোয়ার্ডেরই এই অর্জন নেই।
২৭ মিনিটে ডান দিক থেকে সাদ উদ্দিনের সেন্টার। গোলরক্ষক ফ্লাইট মিস করেন। দৌড়ে এসে বল সরিয়ে দিয়ে বিপদমুক্ত করেন খান মোঃ তারা। ৩৯ মিনিটে সহজ তম সুযোগ হাতছাড়া হয় জামালের। ডান প্রান্ত দিয়ে জাভেদ খানের ক্রসে বক্সে বল পেয়ে রাফায়েল ব্যকপাস করেন সলোমন কিংয়ের কাছে। কিন্তু গোলমূখে বল পেয়েও ব্যর্থ হন এই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে জাভেদের শট ছিলো নিশ্চিত গোল। অভিজ্ঞতার পুরোটা নিংড়ে দিলেন আবাহনী গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেল। হাত বাড়িয়ে বলের গতিপথ বদলে দিয়ে গোলবি ত করেন শেখ জামালকে। ৫০ মিনিটে সলোমন কিংয়ের ক্রস নুরুল আবসার বুঝে নিয়ে পোস্ট লক্ষ্য করে শট নিলে কর্নারের বিনিময়ে দলকে রক্ষা করেন আবাহনীর এক ডিফেন্ডার।
পরের মিনিটে জাহেদ পারভেজের কর্ণার বক্সে পেয়ে সলোমন হেড করলেও বল সরাসরি গ্রিপে নেন গোলরক্ষক। ৮১ মিনিটে বক্সের ২০ গজ দূরে ফ্রি কিক পায় শেখ জামাল। সলোমন কিং কানফর্মের শট চলে যায় বারের উপর দিয়ে। ইনজুরি টাইমে (৯০+৫ মিনিট) কোনাকোনি শটে সানডে চিজোবা গোল করলে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় আবাহনীর (২-০)। এটা সানডের ব্যক্তিগত নবম গোল লীগে।
লীগের প্রথম লেগে আবাহনী-জামাল ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। গত লীগে হেড টু হেডে উভয় দল মুখোমুখি হয় ২ ম্যাচে। প্রথম লেগে ৩-৩ ড্র করে উভয় দল। ফিরতি লেগে অবশ্য ৩-২ গোলে জিতেছিল আবাহনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*