Wednesday , 7 December 2022
আপডেট
Home » জাতীয় » মোতালেব, নাসির ও মতিন কারাগারে
মোতালেব, নাসির ও মতিন কারাগারে

মোতালেব, নাসির ও মতিন কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘুষের মামলায় গ্রেফতার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই ব্যক্তি এবং ঢাকার লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিকের জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠিয়েন আদালত।
শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মোতালেব হোসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্রহণ ও বিতরণ শাখার উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিন এবং লেকহেড গ্রামার স্কুলের অন্যতম মালিক খালেদ হাসান মতিনকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে মহানগর হাকিম জিয়ারুল ইসলাম এই আদেশ দেন।
ওই তিনজনের মধ্যে মোতালেব ও মতিনকে গত শনিবার এবং নাসির গত বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ জানিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছিল। পরে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে রোববার বলা হয়, তিনজনই তাদের হেফাজতে আছে।
গ্রেফতারের সময় নাসিরের কাছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সোমবার রাতে ঢাকার বনানী থানায় ওই তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন ডিবির এসআই মনিরুল ইসলাম মৃধা। জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে বন্ধ লেকহেড স্কুল খুলে দেওয়ার জন্য মতিনের কাছ থেকে মোতালেব ও নাসির ঘুষ নিয়েছিলেন বলে সেখানে অভিযোগ করা হয়।
জামিন আবেদনের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজি বলেন, ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬২ ও ১৬৫ ধারায় দায়ের করা এ মামলা জামিনযোগ্য।
তিনি যুক্তি দেন, বন্ধ করে দেয়া লেকহেড গ্রামার স্কুল খোলার জন্য আসামিরা ঘুষ লেনদেন করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হেয়েছে এ মামলায়। কিন্তু তার আগেই হাইকোর্ট ওই স্কুল খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সুতরাং তাদের জামিন দেয়া যায়।
আর বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের মহাসচিব নাসিরের জামিন আবেদনের যুক্তিতে বলা হয়, ১৯ জানুয়ারি অফিসের পিকনিক সামনে রেখে যে কুপন বিক্রি হয়েছিল, তার টাকা ছিল নাসিরের কাছে। ১৮ জানুয়ারি আটকের সময় তার কাছে সেই টাকাই পেয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে জামিন আবেদনের বিরোধিতায় দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, এ মামলা নিয়ে তদন্ত চলছে এবং অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে। তাদের এখন জামিন দেয়া হলে তাতে তদন্তের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
শুনানি শেষে বিচারক জামিন নাকচ করে তিন আসামির সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়া শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মো. মোতালেব হোসেন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (প্রেষণে) উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিনকে সাময়িক বরাখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে মামলার রায়ের পর মোতালেব-নাসিরের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
মূলত এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি বিষয়ে মঙ্গলবার এ সংবাদ সম্মেলন হলেও সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার ঘুষ নিয়ে ধরা পড়ায় সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়টিও আলোচিত হয়।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মোতালেবসহ গ্রেফতার হওয়াদের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আজই তাদের সাসপেন্ড করা হবে। আদালতে মামলা চলাকালে তারা সাময়িক বরখাস্ত থাকবে। মামলার রায়ের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) আবু আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কে অনুপস্থিত, ছুটিতে আছে কিনা সেসব খবর প্রতিদিন নেয়া সম্ভব নয়। তবে জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাসায় ডিবি পুলিশের অভিযানের পর সোমবার থেকে সচিবালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) আবু আলম। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সালমা জাহানের দফতরে কর্মরত।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে মহানগর গোয়েন্দ পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন জানান, জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া লেকহেড স্কুলটি খুলে দিতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ওই স্কুলের এমডি খালেক হোসেন মতিনের সঙ্গে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার ঘুষের চুক্তি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিন ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন। গত ১৬ ডিসেম্বর করা ওই চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন ধাপে টাকা নেয়ার পর গত ২১ জানুয়ারি অবশিষ্ট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা আনতে গিয়ে বনানীতে ডিবি পুলিশের পাতা জালে ধরা পড়ে তারা।
প্রসঙ্গত, শিক্ষা প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে ঘুষের ঘাঁটি গেড়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব ও উচ্চমান সহকারী নাসিরুদ্দিন। মন্ত্রীর দপ্তরে বসে তারা দিব্যি ঘুষের হাট বসিয়ে গড়েছেন অর্থ-বিত্তের পাহাড়। তাদের ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়টি সচিবালয়েই ছিল ওপেন সিক্রেট। আড়াল-আবডালে বলাবলি হতো একই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে।
কিন্তু অদৃশ্য আশীর্বাদের কারণে তাদের টিকি ছোঁয়ারও সাধ্যি ছিল না কারও! ঘুষের হাটের এই কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কব্জায় আসায় এ নিয়ে তুমুল আলোচনা দেশজুড়ে। তোলপাড় চলছে প্রশাসনের কেন্দ্র সচিবালয়েও। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নিজের
দপ্তরে রেখে সততার দাবিদার মন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ঘুষ নিয়ে বক্তব্য দিয়ে বিতর্কে আসা মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে এই অভিযোগে গ্রেফতারের পর অনেকে মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র তৈরির চেষ্টাও করছেন। দুই কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেফতারের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরো কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেফতার আতঙ্কে আছেন। তাদের বিরুদ্ধেও ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বিস্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*