Wednesday , 21 November 2018
আপডেট
Home » আন্তর্জাতিক » সরকার গঠনে তৎপর ইমরানের দল, বেকায়দায় ফেলতে চায় বিরোধীরা
সরকার গঠনে তৎপর ইমরানের দল, বেকায়দায় ফেলতে চায় বিরোধীরা

সরকার গঠনে তৎপর ইমরানের দল, বেকায়দায় ফেলতে চায় বিরোধীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) এখন সরকার গঠনের হিসাব মেলাতে ব্যস্ত সময় পার করছে। শনিবার (২৮ জুলাই) পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য আরও অন্তত ২২টি আসন প্রয়োজন তাদের। সেক্ষেত্রে ইমরানকে অন্য দল কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে জোট সরকার গঠন হবে। অন্যতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল পিএমএল-এন ও পিপিপি’র সঙ্গে তাদের জোটভুক্ত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। নিজস্ব সূত্রকে উদ্ধৃত করে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, সামনের দিনগুলোতে পার্লামেন্টে পিটিআইকে যেন বেকায়দায় ফেলা যায় তা নিয়ে যৌথ কৌশল নির্ধারণের কথা ভাবছে পিপিপি ও পিএমএল-এন। আর পিটিআই-এর পক্ষ থেকে সরকার গঠনের জন্য এমকিউএম ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নির্বাচনে পিটিআই পেয়েছে ১১৫টি আসন। পিএমএল-এন ৬৪টি ও পিপিপি ৪৩টি আসনে জয় পেয়েছে। পাকিস্তানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চাইলে একটি দলকে ১৩৭টি আসন পেতে হয়। সে সংখ্যা নিশ্চিতে ইমরানের দলের দরকার ২২টি আসনের সমর্থন। ডন জানিয়েছে, শনিবার দিনভর পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো কাদের দেওয়া হতে পারে তাদের সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিলো। পিটিআই-এর এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ডন জানায়, বানিগালায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা হয়নি। সরকার গঠনের হিসাব মেটাতেই দল এখন ব্যস্ত। ডনের পক্ষ থেকে পিটিআই-এর নেতা শাফকাত মেহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, বানিগালায় কোনও আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। তার দাবি, সরকার গঠনের পর দলকে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে কথা হয়নি। শাফকাত মেহমুদকে দলের পক্ষ থেকে জাতীয় পরিষদের স্পিকার হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিলো। সে খবরও নাকচ করে দিয়েছেন শাফকাত।
যেসব পিটিআই নেতা নির্বাচনে একাধিক আসনে জয় পেয়েছেন, সাংবিধানিক শর্ত মেটাতে উপনির্বাচনের জন্য তাদের অতিরিক্ত আসনগুলো ছেড়ে দিতে হবে। একজন নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্য কেবল একটি আসনের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খান পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে তাকে চারটি আসন ছেড়ে দিতে হবে। আরেক পিটিআই নেতা গোলাম সারওয়ার খানকেও একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে। খাইবার পাখতুনখোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ খাত্তাক একইসঙ্গে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের আসনে জয় পেয়েছেন। পিটিআই যদি আবারও তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়, তবে তাকে জাতীয় পরিষদের আসনটি ছেড়ে দিতে হবে। এ অবস্থায় পিটিআই-এর প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১১৫টি থেকে কমে ১০৯-এ দাঁড়াবে। বাকি ৬ আসনের উপনির্বাচনে নতুন করে জয় পেতে হবে তাদের। এ হিসাব মাথায় রেখে পিটিআই নেতৃত্ব এখন ছোট ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে সমঝোতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূত্রকে উদ্ধৃত করে ডন জানায়, পিটিআই-এর সাবেক মহাসচিব জাহাঙ্গীর তারিন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও মুত্তাহিদা কওমী মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। নির্বাচনে এমকিউএম-পি ৬টি আসন পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ১৩টি আসনে। সূত্র জানায়, ইমরান নিজেও দুটি আসন পাওয়া গ্র্যান্ড ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (জিডিএ)’র নেতা মমতাজ ভুট্টোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে জোটে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। নির্বাচনে চারটি আসন পেয়েছে পিএমএল-কয়েদ (পিএমএল-কিউ)। এরমধ্যে দলটির নেতা চৌধুরী পারভেজ এলাহি দুইটি আসন পেয়েছেন। উপনির্বাচনের হিসাব বাদ দিলে, দলটি ইমরানের সঙ্গে জোটভুক্ত হলে তিনটি আসন যোগ হবে সম্ভাব্য জোট সরকারে। পাশাপাশি বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি)-এরও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে ইমরানের দল। বিএপি নির্বাচনে চারটি আসন পেয়েছে।
পিটিআই যদি জিডিএ, এমকিউএম-পি, পিএমএল-কিউ ও আওয়ামী মুসলিম লিগের সমর্থন পায়, উপনির্বাচনের হিসাব বাদ দিলে তাদের আসন সংখ্যা হবে ১২২টি। সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ১৩৭ আসন থেকে ১৫টি আসন কম থাকবে তাদের। সেক্ষেত্রে বিজয়ী ১৩ স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থন পেলেও দুটি আসন কম থাকবে। জাতীয় পরিষদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্য দলগুলো হচ্ছে বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি-মেঙ্গাল (বিএনপি-এম), জামহুরি ওয়াতান পার্টি, আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি ও পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসানিয়াত। নির্বাচনে বিএনপি-এম পেয়েছে তিনটি আসন। আর জামহুরি, আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি ও তেহরিক ই ইনসানিয়াত প্রত্যেকে ১টি করে আসন পেয়েছে।
এদিকে নির্বাচনের ফল বর্জনের ঘোষণা দিলেও পিপিপি ও পিএমএল-এন সূত্র বলছে, দুটি দলই পার্লামেন্টে শক্ত বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পিপিপি ও পিএমএল-এন নেতাদের মধ্যে যোগাযোগও হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে দুই দলের বৈঠক হওয়ার কথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*