Monday , 19 November 2018
আপডেট
Home » অনলাইন » লুটপাটের আখড়া বিআইডব্লিউটিসি-২ ফেরী পুনর্বাসনের নামে কোটি কোটি আত্মসাৎ দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন
লুটপাটের আখড়া বিআইডব্লিউটিসি-২ ফেরী পুনর্বাসনের নামে কোটি কোটি আত্মসাৎ দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন

লুটপাটের আখড়া বিআইডব্লিউটিসি-২ ফেরী পুনর্বাসনের নামে কোটি কোটি আত্মসাৎ দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)র ফেরী বহরে রয়েছে প্রায় ১২৮টির মতো বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ৫৩টি সহায়ক জাহাজ। মোট ১৮১টি জাহাজের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রধান প্রকৌশলী আবদুল রহিম তালুকদার তার দুর্নীতিপরায়ণ সিন্ডিকেট দিয়ে ফেরী সেক্টর পরিচালনা করে আসছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবোধক করে তোলার প্রয়াস হিসেবেই কৌশলে সে কাজ করে যাচ্ছে। ইঞ্জিন ডেক পালশন সিস্টেমের কাজ দেখিয়ে ভুয়া বিল করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। দুইটি ঈদে যখন ঘরমুখী যাত্রীরা নৌপথে যাতায়াত করার পথ বেছে নেয় তখন দেখা যায়, ফেরীগুলো মেরামতের জন্য পুনর্বাসনে পাঠানো হয়েছে। তখনই চলে টাকার খেলা। এই পুনর্বাসনের নামেও চলছে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ দিয়ে কাজ করানো। নিজস্ব ডকইয়ার্ড থাকলেও বেসরকারি ডকইয়ার্ডে ফেরীগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য দেয়া হয়ে থাকে। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে পুনর্বাসনের জন্য দেয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জের নৌবাহিনীর ওয়ার্কশপ। ফেরী পুনর্বাসনের কাজের জন্য ওয়ার্কশপের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিদিন প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর দিয়ে ঘোরাফেরা করেন। কবে ফেরীগুলো পুনর্বাসনে যায়। ফেরীগুলো পুনবার্সনের জন্য প্রধান প্রকৌশলীকে অগ্রিম টাকা দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সচল ফেরীগুলোকেও প্রভাব খাটিয়ে পুনর্বাসনে পাঠানো হয়ে থাকে। যে সকল ওয়াকশর্পে পুনর্বাসনের জন্য পাঠানো হয় তাদের নেই কোনো দক্ষ জনবল, এমনকি ওয়ার্কশপ নেই এমন কারখানার নাম দেখিয়ে কাজ দেয়া হয়। টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটে এইভাবেই।
একটি ফেরী পুনর্বাসনে গেলে সরকারের কত লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয় তা অনুসন্ধান করলে থলের বিড়াল অনায়াসেই বেরিয়ে পড়বে। বছরে একটি ফেরীকে দু’বার পুনর্বাসনের জন্য নেয়া হয়। নামেমাত্র কাজ করিয়ে আবার চলাচলের জন্য নিয়ে আসা হয়। এখানেও চলছে ভৌতিক কাণ্ড নিম্নমানের স্পেয়ার পার্টস কেনার জন্য এরা থাকে তৎপর। একটি ফেরী কেন পুনর্বাসনে যাচ্ছে, কত দিন থাকবে কি কি যন্ত্রপাতি লাগবে, আনুমানিক খরচ কত, কোথায় থেকে যন্ত্রাংশ আনা হবে কেউ জানে না।
এইসব বিষয় দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন। ফেরী পুনর্বাসনে যাবে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে বছরে দু’বার কেন। তাহলে কিসের কাজ করা হচ্ছে কেউ জানতে চায় না। কারণ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলবে না। বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান ও প্রকৌশলীর খুঁটির জোর কোথায় কেউ জানে না। একটি সূত্র জানায়, প্রধান প্রকৌশলী তালুকদার অবসরে যাবার মুহূর্তে তার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু চেয়ারম্যান মফিজুল হক এই দু’জন মিলে এই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সময় থাকতে বিষয়টি নজরে না দিলে এই চক্রটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেবে।
আব্দুল রহিম তালুকদার প্রকাশ্যে বলেন, চেয়ারম্যান তার বন্ধু। আর উপর মহলে রয়েছে তার নিবিড় যোগাযোগ। যে কদিন তিনি চাকরি করবেন সিংহের মতই করবেন। এই রহিম তালুকদারের বিস্তর সহায় সম্পত্তি রয়েছে নামে বেনামে। বেইলী রোডের সন্নিকটে রয়েছে বিলাসবহুল ফ্লাট বাড়ী। টঙ্গী শিল্পাঞ্চলের কাছে রয়েছে ধানী জমি ও প্লট। আরিচা ফেরী সেক্টরে চাকরির সুবাদে তিনি প্রচুর অর্থকড়ি হাতিয়ে নিয়েছেন। সঠিক তদন্ত করলে এইসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের তথ্য রেরিয়ে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*