বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪, ৬ আষাঢ়, ১৪৩১

তারেক মাসুদের মৃত্যু: পরিবারকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ

editor
ডিসেম্বর ৩, ২০১৭ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে বাস মালিক, চালক ও সংশ্লিষ্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে এই টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। রবিবার বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই রায় দেন।
এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ। রায়ের পর চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই রায়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। এরপর কেউ সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারাও ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন। কিন্তু এই রায় ঝুলিয়ে না রেখে দ্রুত বাস্তবায়ন করলেই বেশি সন্তুষ্ট হবো। আমার সাত বছরের ছেলে তার বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই রায়ে তারও কিছু স্বস্তি আসবে।’
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৩ অগাস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা যান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিশুক মুনীর। তারেক ও মিশুককে বহনকারী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে চুয়াডাঙ্গাগামী একটিবাসের সংঘর্ষ হয়। তাতে তারেক-মিশুকসহ মাইক্রোবাসের পাঁচ আরোহী নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। এছাড়াও ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মানিকগঞ্জে মোটরযান অর্ডিন্যান্সের ১২৮ ধারায় বাসমালিক, চালক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ড্রাইভার জমির হোসেন, বাস মালিক কাসেদ মিয়া, মুজিবুল হক, মো. তুহিন, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে বিবাদী করা হয়। তারা সবাই জামিনে রয়েছেন।
মামলায় তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ প্রথমে সাত কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৫২ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। পরে ক্ষতিপূরণের দাবি বাড়িয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা করা হয়। পরে সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে মামলা দুটি জনস্বার্থে হাইকোর্টে বদলির নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন বাদীরা। মামলায় ৫ জনকে বিবাদী করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদের আলোকে মামলাটি হাইকোর্টে বদলির জন্য বাদীদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়। ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে ক্যাথরিন মাসুদের দায়ের করা ক্ষতিপূরণ মামলার শুনানি শুরু হয়।
আদালতে ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে সাতজন, বাস মালিক সমিতির পক্ষে পাঁচজন ও রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষে একজন সাক্ষী দেন।
এ মামলায় তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে শুনানি করেন ড. কামাল হোসেন। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা বাস মালিকদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদার। এছাড়াও রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার ইহসান এ সিদ্দিকী। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইসরাত জাহান।
মামলায় উভয়পক্ষের শুনানি শেষে গত ২৯ নভেম্বর রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়। সেই প্রেক্ষিতে গত ২৯ ও ৩০ নভেম্বর রায় পড়া শুরু হয়ে আজ (রোববার) তা শেষ হয়।

Please follow and like us:

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial