News update
  • গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উপর আরও জোর দেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান     |     
  • আহ্বায়ক টিএইচএম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন     |     
  • মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন- ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গর্ভনরেরা     |     
  • শিক্ষা উপদেষ্টার সাথে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি' আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ      |     
  • দেশে বছর দেড় লাখ মানুষ ক্যান্সার আক্রান্ত হচ্ছে- ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতামত      |     
খবর 2026-01-03, 8:31pm

ইবিতে ৯ মসজিদ: ক্যাম্পাসজুড়ে ইবাদতের আবহ

save_20251226_190343-ea4114496bbc330fe441ef6c857737441767450715.jpg


ইবি প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শিক্ষা, গবেষণা ও নৈতিক চর্চার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশীলনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে অবস্থিত মোট ৯টি মসজিদ ইবিকে দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

এসব মসজিদের মধ্যে রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় মসজিদ, চারটি হল মসজিদ, লালন শাহ হল পকেট গেট সংলগ্ন একটি মসজিদ, প্রশাসন ভবন সংলগ্ন একটি মসজিদ, উপাচার্য বাসভবন সংলগ্ন ভিসি মসজিদ এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার মসজিদ।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকার মুসল্লিরাও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ৯টি মসজিদে নিয়মিত ইবাদতে অংশ নেন। শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় মসজিদেই জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতি শুক্রবার সেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় লোকজনসহ বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদটি দেশের ধর্মীয় স্থাপত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। প্রায় ৫ দশমিক ৫৬ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত এই মসজিদের ধারণক্ষমতা প্রায় ১৭ হাজার মুসল্লি। মসজিদটির প্রধান গম্বুজের উচ্চতা ১৫০ ফুট এবং পুরো স্থাপনায় রয়েছে মোট ১৪টি গম্বুজ। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রীয় মসজিদটি বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি আরব সরকারের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত হয়। এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ এবং যেকোনো ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম মসজিদ হিসেবে পরিচিত।

তবে ক্যাম্পাসজুড়ে মসজিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও কিছু হলে এখনো ইমাম সংকট রয়েছে। জানা যায়, বর্তমানে শহীদ আনাস হল ও লালন শাহ হলে স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো ইমাম নেই। ফলে এসব হলের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা ভোগান্তির মুখে পড়ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে হল প্রভোস্টরা দ্রুত স্থায়ী ইমাম নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, হলভিত্তিক মসজিদগুলোতে ইমাম নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলন আরও সহজ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে।

ইসলামী আদর্শ ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে মানবিক ও নৈতিক নাগরিক গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ক্যাম্পাসজুড়ে বিস্তৃত এই ৯টি মসজিদ সেই দর্শনকে বাস্তব রূপ দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, “আমাদের ক্যাম্পাসে বর্তমানে যে ৯টি মসজিদ রয়েছে সেগুলো ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ইসলামী মূল্যবোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থীদের উচিত নিয়মিত এবাদত পালনে আগ্রহী হওয়া এবং শুধু নামাজের জন্য নয় জ্ঞান অর্জনের জন্যেও মসজিদে আগমন করা।”

তিনি আরও বলেন, ”ইবির কেন্দ্রীয় মসজিদের পূর্ণাঙ্গ কাজ এখনো শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করবো যাতে দ্রুত এর কাজ শেষ করা হয়।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি নৈতিকতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার এক অনন্য কেন্দ্র। ক্যাম্পাসজুড়ে অবস্থিত ৯টি মসজিদ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের ধর্মীয় অনুশীলনের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নৈতিক ও শালীন জীবনচর্চায় উদ্বুদ্ধ করছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় মসজিদটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। ইবাদতের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আত্মিক শুদ্ধতা অর্জনের পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”