News update
  • বিএনপির নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ইবি ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ     |     
  • গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উপর আরও জোর দেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান     |     
  • আহ্বায়ক টিএইচএম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন     |     
  • মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন- ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গর্ভনরেরা     |     
  • শিক্ষা উপদেষ্টার সাথে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি' আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ      |     
খবর 2026-01-18, 12:10am

ইবিতে শহীদ হাদির হত্যার বিচার দাবিতে মুক্তিকামী জনতার বিক্ষোভ

received_2790413441293180-41ffa56788cdb629a5028c66113f30ce1768673423.jpg


ইবি প্রতিনিধি: জুলাই বিপ্লবের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছেন মুক্তিকামী জনতা।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুষ্টিয়া–ঝিনাইদহ মহাসড়ক হয়ে পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজার ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলে শিক্ষার্থীদের ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘দিন দুপুরে মানুষ মরে, প্রশাসন কী করে’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ ও ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক তানভীর মাহমুদ মন্ডল বলেন, “কোনো অদৃশ্য কালো শক্তির কারণে সরকার ও প্রশাসন হাদি হত্যার বিচার করতে ব্যর্থ হচ্ছে। আন্দোলন করলেই আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই। মামলার তদন্তে শুধু শুটার ফয়সাল ও আওয়ামী লীগের এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে নির্দেশদাতা হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ এর পেছনে যে বড় চক্র জড়িত, তা আড়াল করা হচ্ছে। কোন শক্তির কারণে এই সত্য লুকানো হচ্ছে, তা জানতে চাই।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি হত্যার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। একইভাবে আমাদের ভাই সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার ছয় মাস পার হলেও বিচার নিশ্চিত হয়নি। ভিসি নকীব মোহাম্মদ নাসরুল্লাহকে বলতে চাই যে, এই প্রশাসনের সময়েই সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাই সকল শিক্ষার্থীকে আগামী রবিবার প্রশাসন ভবন ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।”

এ সময় শিক্ষার্থী তাজমিন রহমান বলেন, “ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ভাইয়ের হত্যার এক মাস পার হয়ে গেছে। যাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলো, তার বিচার দাবিতে আজও আমাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে—এটা লজ্জাজনক। খুনিরা প্রকাশ্যে চিহ্নিত হলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। ডিজিএফআই, র‍্যাব ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা আমাদের গভীরভাবে হতাশ করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই নীরবতা জনগণের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করছে ‘সর্ষের মধ্যেই ভূত’ রয়েছে কি না। আমরা অবিলম্বে হাদি ভাইয়ের খুনিদের গ্রেপ্তার, হত্যার নেপথ্যের গডফাদারদের পরিচয় প্রকাশ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি যদি মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে আমরা হাদি ভাইয়ের আদর্শে তাদের রুখে দেব।”

শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন বলেন, “আমরা ক্লান্ত হবো না, হতাশ হবো না। শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে ইতিহাস ও স্মৃতি থেকে মুছে যেতে দেব না। বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন ও বিপ্লবে সাধারণ মানুষ রক্ত দিয়েছে, কিন্তু সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এক শ্রেণি ক্ষমতা দখল করেছে। হাদি চেয়েছিলেন স্বাধীনতার স্বাদ সারা দেশে পৌঁছে দিতে। তার আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী হাদি শহীদ হলেও তার উত্তরসূরিরা তার চেতনা যুগ যুগ ধরে বহন করবে। হাদি হত্যার এক মাস পূর্ণ হয়েছে; আমরা আবারও তার হত্যার বিচারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”