News update
  • হাবিপ্রবিতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন     |     
  • সেকেন্দার হায়াত মজুমদারের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ      |     
  • হাবিপ্রবিতে এগ্রিকালচার ফুটবল প্রিমিয়ার লীগের উদ্বোধন      |     
  • হাফিজ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন     |     
  • ফ্যাসিবাদ ও বহির্বিশ্বের ম্যাকানিজম থেকে দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছে তরুণ, যুবকেরা: হাবিপ্রবি উপাচার্য এনামউল্ল্যা     |     
খবর 2026-03-03, 11:08pm

দায়িত্ব পালন করেন না আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা

img-20260303-wa0001-2d7fde53503d27e359a73ee82a4af86e1772557714.jpg


স্টাফ রিপোর্টারঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. বিচিত্রা রাণী দে'র বিরুদ্ধে দায়িত্বে ফাঁকিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞ এবং নিয়মিত অফিস না করলেও পদে বহাল আছেন আবার অপর একজনকেও ভারপ্রাপ্ত আরএমও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ডা. বিচিত্রা রাণী দে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা হিসেবে সরিষাবাড়ীতে যোগদান করেন। যোগদানের শুরু থেকেই তিনি দায়িত্বে অনীহা ও অধিকাংশ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। আরএমও পদটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় প্রধান এবং স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ হলেও এসব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

উপজেলার প্রথম শ্রেণির পৌরসভাসহ ৮টি ইউনিয়নের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য নির্মিত এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নির্ভর করছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী মাদারগঞ্জ, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর ও টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা থেকেও প্রতিদিন শত শত রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। বহির্বিভাগে গড়ে ৪০০-৫০০ জন রোগী দৈনিক সেবা নেন।

অভিযোগ রয়েছে, অতি গুরুত্বপূর্ণ এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরএমও'র ব্যর্থতা ও কর্মফাঁকির কারণে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে প্রশাসনিক কাজকর্ম সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ডা. বিচিত্রা রাণী অফিসে আসেন দেরি করে। প্রায় দিনই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। যদিও বা আসেন কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার আগেই দুপুর ১টার মধ্যেই তিনি অফিস ত্যাগ করেন। সরকারি কর্মঘণ্টা চলাকালে প্রায়ই তিনি ঝালুপাড়া রোডের বেসরকারি আমিনা বেগম মেমোরিয়াল হাসপাতালে প্রাইভেট চিকিৎসা, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সিজারিয়ান অপারেশন করেন। সরকারি কোয়ার্টার থাকা সত্ত্বেও তিনি আমিনা বেগম মেমোরিয়াল হাসপাতালের অভ্যন্তরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। এসব ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে গেলে সে খারাপ আচরণ করেন।

সাতপোয়া গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা বুলবুল আহমেদসহ অনেকেই জানান, ডা. বিচিত্রা অহেতুক পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে রোগীদের হয়রানি করেন। রোগীদের সাথে বাজে ব্যবহার করেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে প্রাইভেট চেম্বারে যেতে বলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, “ডা. বিচিত্রা রাণী দে আরএমও হলেও হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাঁর অদক্ষতার কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই মাসখানেক আগে মেডিকেল কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত আরএমও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

 বারবার তাকে সতর্ক করা হলেও সংশোধন হননি বলেও তিনি জানান।

ডা. বিচিত্রা রাণী দে অভিযোগগুলো "মিথ্যা ও ভিত্তিহীন" দাবি করে মুঠোফোনে সাংবাদিককে বলেন, “আমি আমার ব্যক্তিগত সমস্যার কথা স্যারকে (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা) বলেছি। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিষয় আপনাকে কেন বলবো? আমি কী করবো, না করবো—তা আপনি সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না।" 

এ ব্যাপারে জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, “বিষয়টি  খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”