
স্টাফ রিপোর্টারঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌর এলাকার ঝিনাই ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রিকে কেন্দ্র করে হট্টগোল, হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেই চলেছে। স্থানীয় সিন্ডিকেটের দাপটে সাধারণ বাইকার ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের নাজেহাল হতে হচ্ছে।
এদিকে আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঝিনাই ফিলিং স্টেশনে বিক্ষোভ ও প্রধান সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। এর নেপথ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ইন্ধনের অভিযোগ উঠেছে।
এসময় উত্তেজিত জনতার মুখে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা প্রায় দেড় ঘণ্টা অফিসকক্ষে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল থেকেই স্টেশনটিতে তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন হয়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তেল বিতরণ চলে। স্থানীয় সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য সরিষাবাড়ী পৌর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ দিনের প্রায় অধিকাংশ সময় তেল বিতরণে সহায়তার নামে সেনস্টার মেশিনের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফারুক আহমেদ সাংবাদিক, শিক্ষক ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের তেল নিতে বাধাগ্রস্তসহ অসদাচরণ করেন। এদিকে সন্ধ্যার পর তিনি বাইকারদের উসকানি দিয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণে প্ররোচিত করেন।
ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম জানান, “সকাল ৮টা থেকে তেল বিতরণ শুরু হয়। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তেল দেওয়া বন্ধ করা হয়। এরপরই কিছু অতি উৎসাহী লোকজন পাম্পের সামনে ভিড় জমিয়ে হট্টগোল শুরু করে। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করতে থাকে। এসময় আমরা প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় অফিসের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলাম। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী আলহাজ তুহিন তালুকদার বলেন, “স্টেশনে পর্যাপ্ত তেলের মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহও স্বাভাবিক। কিন্তু সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণ করা যাচ্ছে না। চলমান এসএসসি পরীক্ষা ও সড়কে যানজটের বিষয় বিবেচনায় সপ্তাহে তিনদিন তেল বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু কিছু মানুষের অসহযোগিতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।”
বিক্ষোভে ইন্ধনদাতা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সম্পর্কে তিনি বলেন, “তেল নেওয়ার সময় অনেকেই ভিড় করে। কে কোন পদে আছে, তা যাচাই করা সম্ভব হয় না। ব্যক্তিগতভাবেও আমি তেমন চিনি না।”
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ফারুক আহমেদ স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার আর্থিক অনুদানপ্রাপ্ত নেতা। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবদুর রশিদের ঘনিষ্ট ছিলেন। বর্তমানে এলাকায় তার প্রকাশ্য উপস্থিতি জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, “বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সামান্য উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।”
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিলের বক্তব্য জানার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।