
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান এমপি আজ বৃহস্পতিবার ( ২১ মে) নৌপথে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি দেখতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পরিদর্শন করেছেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান এমপি আজ বৃহস্পতিবার ( ২১ মে) নৌপথে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি দেখতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ফেরিঘাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যানবাহন পারাপার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফেরিঘাটের পন্টুনের নিরাপত্তা বেষ্টনী উঁচু ও মজবুত করা হয়েছে। ফেরিঘাটে স্টপ গেট নির্মাণ করা হয়েছে। যাত্রী ওঠানামার জন্য পৃথক সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি পারাপারের সময় বাস থেকে নেমে ফেরিতে ওঠার জন্য অনুরোধ জানান। একইসঙ্গে নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীদের কোনো অবস্থাতেই নৌকা বা ট্রলার হতে লঞ্চে উঠানামা না করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রতিটি লঞ্চে দৃশ্যমান স্থানে ডিজিটাল ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ঈদুল-আযহার পূর্বের ৫ দিন এবং পরের ৫ দিন অর্থাৎ ২৩ মে হতে ০২ জুন ২০২৬ পর্যন্ত দিন-রাত সার্বক্ষণিক বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এছাড়া রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচলও বন্ধ রাখা হবে।
তিনি বলেন, সদরঘাটে যাত্রীচাপ কমাতে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা ঘাট এবং পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ঘাট হতে লঞ্চ সার্ভিস পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি কুড়িল বিশ্বরোড হতে শিমুলিয়া ঘাট পর্যন্ত বিআরটিসির শাটল বাস সার্ভিস চালু করা হবে।
ঈদুল-আযহার পূর্বের ৩ দিন এবং পরের ৩ দিন অর্থাৎ ২৫ মে হতে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ব্যতীত সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ থাকবে। তবে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেরি পারাপারের সুবিধা পাবে।
তিনি আরও বলেন, কোরবানির পশুবাহী নৌযানকে ঘাটে ভিড়ানোর জন্য কোনো ঘাট ইজারাদার বা তার লোকজন টানাটানি করতে পারবে না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট নৌযানে কোন ঘাটে পশু আনলোড করা হবে তা দৃশ্যমানভাবে ব্যানারে উল্লেখ রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীদের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বিআইডব্লিউটিএ’র হটলাইন ১৬১১৩, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, সরকারি তথ্য ও সেবা ৩৩৩, ফায়ার সার্ভিস ১০২, কোস্ট গার্ড ১৬১১১, নৌপুলিশ ০১৭৬৯-৭০২২১৫ এবং অপারেশন জিরো মিসিং ০১৩২০০০২১৭ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কতৃক অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পরিদর্শনকালে বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয় দপ্তর/সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।