
এস এম খুররম আজাদঃ জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের লক্ষাধিক ভোটে নিরঙ্কুশ বিজয়ে খুশি এলাকাবাসী। শিল্প নগরী হিসেবে খ্যাত সংসদীয় এ অঞ্চলে তাঁকে মন্ত্রী বানানোর জোরালো দাবি সরিষাবাড়ী বাসির।
বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম পোস্টাল ব্যালটসহ উপজেলার ৮৯টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোতেই বিজয়ী হয়েছেন—যা সরিষাবাড়ীর নির্বাচনী ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। এমনকি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী জামায়াত প্রার্থী অ্যাড. আব্দুল আওয়ালের নিজ কেন্দ্র আরামনগর কামিল মাদরাসাতেও অনেক এগিয়ে শামীম তালুকদার।
ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪০৬ ভোট এবং জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল আওয়াল পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৯৪৭ ভোট। ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ ভোট—যা শুধু জেলার ৫টি আসনের মধ্যেই নয়, বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগেও অন্যতম বৃহৎ ব্যবধান।
দাদা রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য (এমপিএ) এবং চাচা প্রয়াত আব্দুস সালাম তালুকদার বিএনপির সাবেক মহাসচিব। শৈশব-কৈশোর থেকেই ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের রাজনীতি শুরু।
শামীম তালুকদার ছাত্রজীবনে সরিষাবাড়ী রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার কলেজের ভিপি ছিলেন। পরে তিনি সরিষাবাড়ী পৌরসভার প্রথম ও তিনবারের চেয়ারম্যান এবং মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলেও উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর পরিবার থেকেই তিনবার মন্ত্রী পেয়েছে সরিষাবাড়ীবাসী। চাচা আব্দুস সালাম তালুকদার রাষ্ট্রপতি জিয়া সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া সরকারের এলজিআরডি মন্ত্রী হন। বড়ভাই মেজর জেনারেল (অব.) আনোয়ারুল কবির তালুকদার শাহজাদা হয়েছিলেন প্রথমে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহল মনে করেন, অধিকাংশ সরকারের আমলেই মন্ত্রিত্বের ছোঁয়া পেয়েছে সরিষাবাড়ী। পাশাপাশি তালুকদার পরিবারের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও যোগ্যতার ধারাবাহিকতায় শামীম তালুকদারকে মন্ত্রী করা সময়ের দাবি।
সরিষাবাড়ী কলেজের প্রভাষক খায়রুল আলম শ্যামল জানান, "একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত প্রায় ৫ লাখ মানুষের জনপদ সরিষাবাড়ী যমুনা সার কারখানাসহ পাট-শিল্পের জন্য বিখ্যাত। বিগত সরকারের জনপ্রতিনিধিদের অদক্ষতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে এ গৌরব হারানোর পথে। হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে আমরা ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।"
উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মাসুম আহমেদ বলেন, "শামীম তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশেও তিনি মাঠে ছিলেন, মানুষের পাশে থেকেছেন—তিনি মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার দাবি রাখেন।"
সরিষাবাড়ী পৌরসভার স্টোরকিপার হুমায়ুন কবীর শ্যামল জানান, "যোগ্যতা, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার অপর নাম শামীম তালুকদার। তিনি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হলে আমরা উন্নত উপজেলা পাবো। জনমানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে।"
সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা সংস্থার পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খোকন বলেন, "অবহেলিত ও চরাঞ্চলের মানুষদের ভাগ্যের পরিবর্তনে শামীম তালুকদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দেখতে চাই।"
সরিষাবাড়ীর মানুষ মনে করে—এই জনপদের তৃণমূল নেতৃত্ব থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসা শামীম তালুকদার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হলে নিজের এলাকার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম হবেন।
এব্যাপারে ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম বলেন, “বিজয় আমার একার নয়—এটি সর্বস্তরের মানুষের বিজয়। ভোটাররা যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তা সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পালন করার দৃঢ় অঙ্গীকার করছি। গড়ে তুলবো শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উন্নত সরিষাবাড়ী—শান্তির সরিষাবাড়ী।”
তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান আমাকে বড় ধরনের দায়িত্ব দিলে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে উন্নয়ন, শান্তি এবং জনকল্যাণে নিরলস কাজ করে যাবো।”