
মো: আশফিকুর রহমান সরকার, হাবিপ্রবি: দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পর্যায়ের লেভেল-১, সেমিস্টার-১ এ ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ নূর হোসেন হল সংলগ্ন মাঠে উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ জনাব মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি, সংসদ সদস্য জনাব মো. মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু, মো. সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, জনাব সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এবং হাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাড. মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল। ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. আবু হাসান, শুভেচ্ছা বক্তব্য ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান, এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন প্রভোস্ট কাউন্সিল এর সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আবু সাঈদ মন্ডল ও ডিন কাউন্সিল এর সভাপতি প্রফেসর ড. মো. মনিরুজ্জামান বাহাদুর, উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান। উপস্থাপনা করেন প্রফেসর ড. মো. মহিদুল হাসান ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। অনুষ্ঠানে হাবিপ্রবি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন অর্ণব, মেহেদী বাবু, সুমন ও সাগর। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-কর্মকর্তা, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পর্যায়ের লেভেল-১, সেমিস্টার-১ এ ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা হয়। এরপর নবাগত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দুজন তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। অতঃপর প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ওরিয়েন্টেশন স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ জনাব মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি বলেন, আমরা উত্তর জনপদের মানুষ অবহেলিত, তাই আমাদের কিছু দাবী আছে মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে। আমি হাবিপ্রবিকে একটি রেসিডেন্সিয়াল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানাই, অর্থাৎ ভর্তির পরেই যেন একজন শিক্ষার্থী হলে একটি সিটের নিশ্চয়তা পায়। পরিশেষে তিনি মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলরসহ আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি বলেন, ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান একজন শিক্ষার্থীর জীবনে আনন্দের বিষয়। পৃথিবী আজ গ্লোবাল ভিলেজ, গতানুগতিক শিক্ষা থেকে বের হয়ে আগামীর শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে কাজ করছে সেটা দেখার জন্য আমি মন্ত্রনালয়ে আলাদা সেল তৈরি করছি। শিক্ষা এমন একটা জিনিস, যেটার প্রতিযোগিতা শুধু বাংলাদেশ বা হাবিপ্রবি কেন্দ্রীক না প্রতিযোগিতা হবে বিশ্বায়নে, এজন্য পড়ালেখা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগে কোন ধরণের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হবে, এর কারিগর হলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্বায়নের যুগে আমরা যদি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ, এটাকে অভিশাপ হিসেবে না নিয়ে আশীর্বাদ হিসেবে নিতে হবে। দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সম্পদ অনেক সীমিত, এর মাঝেই ধীরে ধীরে সকল চাওয়া পাওয়া পূরণ করতে হবে। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় তার বক্তব্যে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা ও শ্রেনীকক্ষের মান বৃদ্ধি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তব্যে তিনি কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং-এ হাবিপ্রবির অবস্থানের উন্নতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, হাবিপ্রবির ক্লাসরুম, লেখাপড়া, গবেষণ, ল্যাব এগুলোর উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার করতে হবে, ইতোমধ্যে ৫০০ কোটিরও বেশি টাকা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ হয়েছে, এটা দিয়ে শিঘ্রই কাজ শুরু হবে। আমি চাই ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ঢাকার চেয়ে ভালো করুক, এজন্য কাজ করে যেতে হবে। পরিশেষে তিনি সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে হাবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা বলেন, তোমরা অনেক ভাগ্যবান, কারণ এ বছর ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এপ্রিলের এক তারিখ থেকে আমরাই প্রথম ক্লাস শুরু করতে পেরেছি। এজন্য আমি তোমাদেরকেসহ শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানাই । তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের কিছু চিত্র তুলে ধরেন, এর মাঝে অবকাঠামো উন্নয়ন বাবদ প্রায় ৫৭৬ কোটি টাকার ডিপিপি অনুমোদন, এই ডিপিপি তে ছাত্র ও ছাত্রীদের দুটি ১২ তলা হল, একাডেমিক ভবন, আধুনিক গবেষণাগার, প্রশাসনিক ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ, মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়ন, জিমনেশিয়াম ইত্যাদি। এছাড়াও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি, দীর্ঘ ১৫ বছর পর সমাবর্তন আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি গবেষণা মাঠের জন্য জমি অধিগ্রহণ, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বাস ক্রয় করা, সকল অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষক নিয়োগ, কর্মকর্তাদের উচ্চতর পদ সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করেন। পরিশেষে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, হুইপ মহোদয়, এমপি মহোদয়গণসহ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন এবং বলেন বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর সুদূর প্রসারি নেতৃত্বে আমরা যেন বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারি।