
এস.এম জুবায়ের- আজ ২০ মে, ২০২৬ তারিখ বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস (World Metrology Day)। ওজন ও পরিমাপ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপি এ দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। এ বছরের বিশ্ব মেট্রোলজি দিবসের প্রতিপাদ্য "Metrology: Building Trust in Policy Making - নীতি নির্ধারণ প্র্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’’। প্রতিপাদ্যটিতে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষৎতের পরিমাপের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও জাতীয় মান সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে পরিমাপ বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা: International Bureau of Weights and Measures (BIPM) এবং International Bureau of Legal Metrology (BIML) এর প্রধানগণ বাণী দিয়েছেন।
মেট্রোলজি বা পরিমাপ বিজ্ঞান আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, শিল্পায়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা এবং ভোক্তা অধিকার রক্ষার অন্যতম ভিত্তি। সঠিক ও নির্ভরযোগ্য পরিমাপ ছাড়া ন্যায্য বাণিজ্য, মানসম্মত উৎপাদন এবং কার্যকর নীতি নির্ধারণ সম্ভব নয়।
বিএসটিআই দেশের জাতীয় মান প্রণয়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পণ্যের মান নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি ওজন ও পরিমাপের নির্ভুলতা বজায় রাখা, মেট্রিক পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক এসআই (SI) ইউনিট বাস্তবায়ন এবং লিগ্যাল মেট্রোলজি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে প্রতিষ্ঠিত অত্যাধুনিক National Metrology Laboratory (NML-BSTI) জাতীয় পরিমাপ মানদণ্ড সংরক্ষণ, আন্তর্জাতিক ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিতকরণ এবং ক্যালিব্রেশন সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতকে সহায়তা করে যাচ্ছে।
একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো একটি শক্তিশালী National Quality Infrastructure (NQI)। সরকারি ‘জাতীয় গুণগত মান (পণ্য) ও সেবা নীতি’র আলোকেও বাংলাদেশের এই অবকাঠামো মূলত চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে: মানকরণ (Standardization), মেট্রোলজি (Metrology), কনফরমিটি অ্যাসেসমেন্ট (Testing) এবং অ্যাক্রেডিটেশন (Accreditation)।
বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উপলক্ষে বিএসটিআই বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে বিএসটিআই'র প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহে আলোচনা সভাসহ প্রচার-প্রচারণামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশ ও বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ সাক্ষাতকারভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা (এসএমএস) প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড লাগানো হয়েছে।