
আজকের প্রভাত প্রতিবেদক: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ যাবৎ যারাই এ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন তাদের মধ্যে ড. মো. এনামউল্যার নেতৃত্ব দক্ষতা এবং স্বচ্ছতার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে আছে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১৬ বছর পর সমাবর্তন অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করেন। ২২ নবেম্বর ২০২৫ তারিখের সে অনুষ্ঠানে আট হাজারের উপরে শিক্ষার্থীকে মূল সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছাত্রীদের জন্য BNCC একটি নতুন কোর খোলা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একনেকে ৫৭৬ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকার ডিপিপি অনুমোদন দেয়া হয়েছে যা বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়নের জন্য মাইলফলক। এর মাধ্যমে ২৫ বছর পূর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির আমূল পরিবর্তন করে নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলা হবে। আর একনেক থেকে এই বিপুল অর্থ প্রাপ্তির পিছনের কারিগর ছিলেন অধ্যাপক এনামউল্যা।
গণতন্ত্রের মানসকন্যা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার নিদর্শনস্বরূপ ১২তলাবিশিষ্ট ‘বেগম খালেদা জিয়া’ নামে একটি ছাত্রী হল এবং ‘অমর একুশে’ নামে ১২তলাবিশিষ্ট একটি ছাত্রাবাসেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একাধিক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সফলভাবে আয়োজন করে শিক্ষা ও গবেষণায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১ সালের ৩৫ নং আইনের ২ ধারা অনুযায়ী ০৮ এপ্রিলকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ঘোষণা করা হয় যা বিগত বছগুলোতে যথাযথভাবে পালন করা হয়নি। ভিসি হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে তিনি চেষ্টা করেছেন এ দিনটিকে যথাযথভাবে পালন করতে। ১ বছর ৮ মাস তার দায়িত্বকালে সেশনজট ৭ মাস কমিয়ে ২০২৬এর পহেলা এপ্রিল ভর্তিকৃত নবাগত শিক্ষার্থীদের দেশের ভিতর প্রথম ক্লাস শুরু করে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এবং উক্ত প্রবেশিকা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।
ড. মো. এনামউল্যা জুলাই চেতনাকে সাহসিকতার সাথে ধারণ করে এবং শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন হলের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করেন ‘বিজয় ২৪ হল’, ‘শহীদ আবরার ফাহাদ হল’, ‘শহীদ নূর হোসেন হল’, ‘বেগম রোকেয়া হল’, ‘নবাব ফয়জুননেসা হল’। দিনাজপুরের কৃতি সন্তান সাবেক মন্ত্রী (বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোন) খুরশীদ জাহান হকের অবদানের কথা স্মরণীয় করে রাখতে ‘খুরশীদ জাহান হক হল’ নামে একটি হলের নামকরণ করা হয়। যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়।
জুলাই ২০২৪ আন্দোলনের সময় যারা এর বিরোধিতা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছিলো তাদের বিচারের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন ড. মো. এনামউল্যা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম তিনি টিএসসি এবং লাইব্রেরিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেন। ডাইনিংএ উন্নত ও স্বাস্থ্যকর খাবার চালু করে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেন। ছাত্রী হলের নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ ও সংস্কার এবং রাস্তা নির্মাণ তার অন্যতম দৃষ্টান্তমূলক কাজ। শিক্ষার্থীদের কোর্স ফি কমানোর পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পিএইচডি ফেলোশিপ চালু করেন যা তাকে স্মরণীয় করে রাখবে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন। জুলাই স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ‘জুলাই চত্বর’, ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ ও জুলাই ৩৬ সড়ক’ উন্মোচন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম বিজয় দিবস ও ৫ আগস্ট হলে হলে শিক্ষার্থীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করেন যা এক অনন্য ইতিহাস হয়ে থাকবে। বৈষম্যের শিকার প্রায় ২৩৬জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিকে পদোন্নতি দিয়ে শ্রদ্ধার আসনে নিজের জায়গা করে নিযেছেন।
সারাদেশে যদি এমন দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর হাল ধরেন তবে আমরা বিশ্বাস করি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। ড. মো. এনামউল্যার কর্মকাল, শিক্ষা এবং গবেষণাবান্ধব নেতৃত্ব আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।