
যুক্তরাষ্ট্র সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের দূতদের মধ্যে আলোচনা আয়োজন করতে যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার এটি শুরু হয়, আজ বুধবারও বসবেন তারা। রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর কূটনীতি তখনই কার্যকর হবে, যখন তা ‘ন্যায়বিচার ও শক্তি’ দ্বারা সমর্থিত হবে। অন্যদিকে রাশিয়াও দাবি করেছে যে রাতে তাদের ওপর ডজনখানেক ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান রুস্তেম উমেরভ। রাশিয়ার দলে নেতৃত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেদিনস্কি।
জেনেভার এই আলোচনা এর আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত দুই দফা আলোচনার ধারাবাহিকতা। দুই পক্ষই সেই আলোচনা ‘গঠনমূলক’ বলে উল্লেখ করলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
রাতের হামলার প্রসঙ্গ টেনে সামাজিক মাধ্যমে জেলেনস্কি লিখেছেন, কূটনীতি আরও কার্যকর হবে ‘ন্যায়বিচার ও শক্তির’ মাধ্যমে। তিনি বলেন, “রাশিয়ান ফেডারেশনের ওপর চাপের শক্তি, নিষেধাজ্ঞার চাপ এবং ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী ও আমাদের বিমান প্রতিরক্ষায় ধারাবাহিক ও দ্রুত সহায়তা।’ তিনি অংশীদার দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান হামলার জন্য রাশিয়াকে জবাবদিহির আওতায় আনতে।
তিনি আরও বলেন, ‘শান্তি যদি সত্যিকারের ও ন্যায়সংগত হতে হয়, তবে পদক্ষেপ নিতে হবে এই আগ্রাসনের একমাত্র উৎসের বিরুদ্ধে। কারণ হত্যাকাণ্ড, ব্যাপক হামলা ও আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে মস্কোই।’
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা রাশিয়ার রাতের হামলার জবাবে দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কূটনীতিকে শক্তি দিয়ে সমর্থন করতে হবে। তিনি এক্সে লেখেন, ‘মস্কো শুধু চাপের ভাষাই বোঝে। শক্তি দ্বারা সমর্থিত না হলে তারা কূটনীতিকে গুরুত্ব দেবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ অত্যন্ত জরুরি। ছায়া নৌবহর অবরুদ্ধ করতে হবে। সামুদ্রিক সেবা নিষিদ্ধ করতে হবে। রুশ আগ্রাসনে অংশগ্রহণকারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে।’
এদিকে ইউক্রেনও রাতে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় ইলস্কি তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একটি তেলজাত পণ্যের রিজার্ভারে ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনীয় ড্রোন রুশ নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার বিভিন্ন অংশেও আঘাত হানে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এতে এক শিশু আহত হয়েছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে।
সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ের দীর্ঘতম হামলাগুলোর একটি’ চলাকালে দুই ডজনের মতো ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা রাতে মোট ১৫১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতে ইউক্রেনজুড়ে ৩৯৬টি ড্রোন ও ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। কর্মকর্তারা বলেন, ২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৬৭টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওডেসা ও দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আবাসিক ভবন, প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, জেনেভায় তাদের আলোচক দলকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তার মার্কিন সমকক্ষ ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে কাজ করার ‘সবচেয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা’ দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার তাস সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে রিয়াবকভ বলেন, আলোচনার বিষয়গুলো এখনো ‘বিস্তৃত’। তিনি বলেন, ‘যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি যেন টেকসই হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এর অর্থ হলো, এই সংঘাতের মূল কারণগুলো সমাধান করতে হবে। আরও অনেক দিক রয়েছে, যেগুলো নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিবিড়ভাবে আলোচনা হয়েছে এবং হচ্ছে।’ সূত্র: রয়টার্স