
এস এম খুররম আজাদঃ জামালপুর জেলা কারাগারে দুই বন্দির মধ্যে মারামারিতে হযরত আলী ওরফে পাগলা হযরত (২৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত পাগলা হযরত জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চেংটিমারি গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কারা সূত্র জানায়, বকশীগঞ্জ থানার মামলা নং ১৪, জিআর মামলা নং ২৪২ (২) ২৫-এর আসামী পাগলা হযরত মাস খানেক আগে মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে জামালপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে কারাগারের ভেতরে থুথু ফেলাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে অপর বন্দি বকশীগঞ্জের কামালপুর বালুরগাঁও গ্রামের মৃত ছামিউল হকের ছেলে রহিদুর মিয়ার (৪০) কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে টয়লেটের দরজার কাঠের টুকরো দিয়ে রহিদুর আরও ২-৩ জনকে নিয়ে হযরতের মাথায় আঘাত করেন বলে কারাগারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কারারক্ষীরা উদ্ধার করে প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনাটি রহস্যজনক বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।
একজন প্রাক্তন হাজতি জানান, "পুরো কারাগার সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত। সেখানে হাজতিদের মধ্যে মারামারি হওয়ার সুযোগ নেই। হযরতকে পাগল বলা হচ্ছে, কিন্তু পুরো কারাগারে পাগল আছে ৬-৭ জন। পাগল বন্দিদের দেখাশোনার জন্য আলাদা (কয়েদী) সেবক রাখা হয়েছে। যদি মারামারিই হয়, তখন সেবক কোথায় ছিলেন?”
এব্যাপারে কারাগারের জেলার লিপি রানী সাহার বক্তব্য জানতে দিনভর মুঠোফোনে চেষ্টা করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সন্ধ্যায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ.কে.এম. আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ জানান, "জেল সুপারের তথ্য মতে, কাঠের টুকরো দিয়ে আঘাতে মৃত্যুর বিষয়টি প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে, তদন্ত প্রতিবদনের আলোকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে ঢাকায় লাশের ময়নাতদন্ত চলছে, ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের হাতে লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।