
মো: রতন মাহমুদ, শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরে আদালতে একটি মামলায় হাজিরা শেষে বাড়ী ফেরার পথে বর্বোরচিত হামলার শিকার হয়েছেন নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ১০ জন। গুরুতর আহত হওয়ার পর ভুক্তভোগীরা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পালং মডেল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে জানিয়েছেন নিলুফা ইয়াসমিন। এরপর ভুক্তভোগীরা ৪/৫ দিন ঘুরে শরীয়তপুরের সিনিয়র চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেড আমলী আদালদে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে প্রভাবশালীদের ভয়ে আতংকে আছে পরিবারটি। শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার বলছেন, বিষয়টি আমি জানিনা।
ঘটনাটি ঘটেছে, ২৫ ফেব্রুয়ারী বুধবার দুপুরে শরীয়তপুর জেলা শহরের কুরাশী নামক এলাকায়।
সরজমিন ঘুরে, সাত্তার খান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের মধ্য গোলমাইজ গ্রামের বাসিন্দা শাজাহান খান ্ও একই বাড়ীর সাত্তার খানের সংগে জমি জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে সম্প্রতি তাদের মধ্যে মারামারি হয়। এ ঘটনা কে কেন্দ্র করে শাহজাহান খান বাদী হয়ে সাত্তার খানসহ ৫ জনকে আসামী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ২৫ ফেব্রুয়ারী শরীয়তপুর কোর্টে হাজিরা শেষে সাত্তার খানসহ তার পরিবার অটো বাইকযোগে বাড়ীর উদ্যেশ্যে রওয়ানা দেয়। সদর পৌরসভার প্রেমতলার কুড়াশি নামক স্থানে পৌছালে মামলার বাদী শাজাহান খান এবং তার পুত্র মিজান খান সহ সন্ত্রাসীরা মিলে রাস্তার উপর অটো বাইক গতিরোধ করে। প্রথমে সন্ত্রাসীরা ৫ মাসের শিশু সাবিহা ও তিন বছরের শিশু হাসিবা ইসলাম কে তাদের মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে রাস্তার উপর আছড়ে ফেলে দেয়। এর পর সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র- সস্ত্র ও লাঠি সোটা নিয়ে এলোপাথারি ভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রাব্বী (১৩),মোঃ হাসান খান (২৪),মরিয়ম বেগম (৫০),ছাত্তার খান (৫৬),সাদিয়া বেগম (২১) ,শান্তা (২৩), অটো চালক মামুন মিয়া (৩০) কে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা আহত ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোবাইল টাকা পয়সা স্বর্ণালংকার কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পালং মডেল থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাদের কে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত ছাত্তার খান , মরিয়ম বেগম ও মোঃ হাসানের মাথায় ( ৭ থেকে ২১টি পর্যন্ত ) সেলাই রয়েছে।
পরে তাদের সাথে থাকা আহত ছাত্তার খানের ভাগ্নি নিলুফা ইয়াসমিন বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ৩জন সহ আরো অজ্ঞাত নামা পাঁচ থেকে ছয় জন কে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন। পালং মডেল থানায় মামলা না নেওয়ায় ৪/৫ দিন ঘুরে শরীয়তপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেড আমলী আদালতে মামলা দায়ের করে। বর্তমানে ঐ পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
নিলুফা ইয়াসমিন বলেন,মামলার হাজিরা শেষে আদালত থেকে ইজি বাইকে মামা মামির সাথে বাড়ী যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। শরীয়তপুর সদর পৌর এলাকার কুরাশী নামক স্থানে আসলে মল্লিক বাড়ীর চায়ের দোকানের সামনে মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট পরিহিত ছয় সন্ত্রাসী আমাদের গাড়ীকে গতিরোধ করে থামিয়ে দেয়। গাড়ী থামতেই শাজাহান খান এবং তার পুত্র শফিক খান, সবুজ দেওয়ান ও মিজান মুন্সিসহ অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমাদের কোলে থাকা শিশুদের নিয়ে আছাড় দেয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।
আহত ছাত্তার খান বলেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করলে তাৎক্ষণিকভাবে মাথা ফেটে যায়। এতে মাথায় সাতটা সেলাই লাগে। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পালং থানার দারোগা (এস আই) মোঃ শাহরিয়ার কবির, (কনঃ)মিলন ও (কনঃ) ইউসুফ হাসপাতালে গিয়ে ভর্তিকৃত রোগীদের তদন্ত করে বলেন আপনাদের টাকা খরচ করতে হবে। টাকা খরচ না করলে আপনারা প্রতিকার পাবেন না।
শাজাহান খান বলেন, শরীয়তপুরের কুরাশী নামক স্থানে আমরা একা হামলা করিনি। ওরাও আমাদের উপর হামলা করেছে। আমার ছেলে শফিক খান কে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি।
পালং মডেল থানার এস আই শাহরিয়ার কবির বলেন, এজহারে ভুল থাকার কারনে আমি তাদের কে এজহারের কপি সংশোধন করে আনতে বলেছি।পরে আর তারা আমাদের কাছে আসেনি। টাকা চাওয়ার বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট ।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহ আলম বলেন, ঘটনাটি আমি দেখছি।