আব্দুল আজীম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ ) প্রতিনিধি। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড় পয়লা গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে সখিনা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও সতীনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম সম্প্রতি তৃতীয় বিয়ে করার পর থেকেই দ্বিতীয় স্ত্রী সখিনার সাথে তার বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। এই কলহের জেরে সোমবার ( ১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকেই সখিনার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় সাইফুল ও তার নববিবাহিত স্ত্রী সাবিনা। নির্যাতনের একপর্যায়ে সখিনার মাথার চুল কেটে তাকে চরমভাবে অপদস্থ করে।
মঙ্গলবার ( ১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সখিনা পানি পান করতে চাইলে অভিযুক্তরা কৌশলে পানির বদলে বিষমিশ্রিত শরবত তাকে পান করায়। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সখিনার মৃত্যু হয়।
নিহতের মেয়ে যুথী আক্তার জানান, শরবতের সাথে আমার মাকে বিষ মিশিয়ে খাওয়ায়। ওই শরবত খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মুখ দিয়ে ফেনা বের হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আমার মা মারা যায়। এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।
ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রয়োজন। রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় নিহত সখিনা বেগমের স্বামী সাইফুল ইসলাম ও তৃতীয় স্ত্রী সাবিনাকে আটক করা হয়েছে।