News update
  • সরকারের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদির পাশাপাশি জনগণের স্বল্পমেয়াদি প্রত্যাশা পূরণ করা- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী     |     
  • এমপি ও পুলিশ কর্মকর্তা নিয়ে কটূক্তি চাঁদাবাজি মামলা করায় ছেলেকে দিয়ে ঠিকাদারের মাকে ধর্ষণের হুমকি     |     
  • ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী     |     
  • পুলিশসহ অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে দ্রুত জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হবে- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী      |     
  • টেকসই অবকাঠামো ও পেশাদারিত্বের অঙ্গীকার      |     
খবর 2026-04-05, 7:41pm

বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়কের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দুর্নীতির অভিযোগ, বিক্ষোভ

whatsapp-image-2026-04-05-at-7-71e5493f7e54a17f479ac1b4c3561d811775396498.jpeg


নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবু কামাখ্যা চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কমিটি বাণিজ্য ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছে দলটির একাংশের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ জামাল উদ্দিনকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে শোকজ করা হয়েছে। 

শুক্রবার (৩এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের দোয়ালিয়া দেবীপুর এলাকায় এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের দোয়ালিয়া-দেবীপুর এলাকায় ১.১ কিলোমিটার একটি খাল পুনঃখননের কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে শুক্রবার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু। এতে উপস্থিত ছিলেন বেগমগঞ্জ উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কায়েসুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল, উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, জেলা বিএনপি’র সদস্য এডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ, উপজেলা বিএনপি নেতা মোঃ আহসান উল্লাহ প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কমিটি বাণিজ্য ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন দলের একাংশের নেতাকর্মী সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীরা কামাখ্যা চন্দ্র দাসের নাম ও ছবি সংবলিত ব্যানার হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বক্তারা অভিযোগ করেন, কামাখ্যা চন্দ্র দাস ও তার অনুসারীদের অনিয়ম ও নির্যাতনে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা এ বিষয়টি প্রধান অতিথি বেগমগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুকে জানাতে স্টেজের দিকে যান। অভিযোগ জানানোকে কেন্দ্র করে সেখানে উপস্থিত দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

স্থানীয় সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলুর উপস্থিতিতে কামাখ্যা চন্দ্র দাসকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে পোস্টার ও ব্যানারে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি এলাকা ত্যাগ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, কামাখ্যা চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং নিজের দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও চাঁদা দাবি ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলাকায় ভবন নির্মাণ করতে গেলে মোটা অংকের টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া ইউনিয়ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস দিয়ে প্রবাসী ও বিত্তশালীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, দোকান ও সড়ক থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা। প্রতিবাদ করলে মারধর, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, কামাখ্যা চন্দ্র দাস সাংবাদিকের নিকট তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে করা কর্মসূচির নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে শোকজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।