
মো: আশফিকুর রহমান সরকার, হাবিপ্রবি: দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ২৪ ব্যাচের সিনিয়র ও ২৫ ব্যাচের জুনিয়রের কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মধ্যে রাতে মারামারি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মতে জানা যায়, নুর হোসেন হলের ২৫ ব্যাচের এক জুনিয়রের সাথে নুর হোসেন (এক্সটেনশন) হলের ২৪ ব্যাচের কথা কাটাকাটি হয়।নুর হোসেন এক্সটেনশন হলের ডি বক্সের সামনে বিরোধ মীমাংসার সময়ে আবারো উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং দুপক্ষের মাঝে মারামারি শুরু হয়। এক পর্যায়ে দুই হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, দুই হল থেকে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে এবং কেউ কেউ লাঠি চালাচালিও করে। রাত সাড়ে ১১ টায় সংঘর্ষ শুরু হলে প্রক্টর, হল সুপাররা মারামারি থামানোর চেষ্টা করে।এক পর্যায়ে মারামারি থেমেও যায় পরবর্তীতে দুই হলের শিক্ষার্থীরা একে অপরকে উস্কানি দিলে আবারো সংঘর্ষ শুরু হয়।এতে প্রায় ৭-৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। রাত আনুমানিক ৩ টায় সংঘর্ষটি শেষ হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিপ্রবি প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান বলেন, রাতে ফোনকলে জানতে পারি দুই হলের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা শুরু হয়েছে। খবর পেয়ে সংঘর্ষ স্থলে উপস্থিত হই।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও অবগত করে রাখি যেন,কোনো খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। সেখানে হল সুপার,সহকারী প্রক্টর সহ অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করি।কিন্তু তারা কিছুতেই থামছিল না।এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল মারছিল। এতে প্রায় ৭-৮ জন আহত হয়েছে। কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে,কেউ দিনাজপুর মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছে। আমরা পরবর্তীতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
নুর হোসেন হলের হল সুপার প্রফেসর ড. মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, সিনিয়র এবং জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মাঝে কথা কাটাকাটির জেড়ে তাঁদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এটাকে কেন্দ্র করে নুর হোসেন এবং নুর হোসেন (এক্সটেনশন) হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে মারামারি সৃষ্টি হয়।যা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। মারামারিতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।খবর পেয়ে সেখানে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা বলছেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যদি দুই হলের মাঝে এমন মারামারি হয় তাহলে বিষয়টি খুবই খারাপ এবং অশনি সংকেতের। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসনের উচিত হবে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।নইলে পরবর্তীতে আরো বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে যা পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরাপদ বসবাসের বিঘ্ন ঘটাবে।