
নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী সদর সাব-রেজিস্ট্রার বুলবুল আহমেদের বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য ও নানান অনিয়মের কারণে সেবা প্রত্যাশীদের ফের হয়রানির অভিযোগ ওঠেছে।
জানা যায়, সদর সাব-রেজিস্ট্রার কতিপয় দলিল লেখকের যোগসাজশে প্রতি দলিল থেকে অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করছেন। আর এ অতিরিক্ত টাকা থেকে সাব-রেজিস্ট্রার বুলবুল আহমেদ ১ হাজার টাকা ও বাকি ১হাজার কতিপয় দলিল লেখকের সিন্ডিকেট ভাগাভাগি করে নিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া সরকারি আদেশ অমান্য করে সকাল ৯টার অফিস দুপুর ১টায় করছেন বলে অভিযোগ আছে । তাঁর এমন নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ক্ষোভে ফুঁসছে স্হানীয় সেবা প্রত্যাশী ও দলিল লেখকরা।
নতুন করে চালু হওয়া অতিরিক্ত টাকা নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দলিল লেখক জানান,স্বাভাবিক দলিল ভেদে একজন সাব- রেজিস্ট্রারের ঘুষের রেট নির্ধারন হয়।এটা প্রকার ভেদে লাখ টাকাও ছাড়ায়।অতি সম্প্রতি তিনি নতুন করে দলিল প্রতি বর্ধিত ২হাজার টাকা নির্ধারন করেন।প্রথমে এটা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কোনো এক অদৃশ্য কারণে এখন সবাই চুপ।
এছাড়া তিনি কর্মস্হলে যথাসময়ে উপস্থিত থাকেনা বলে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন।এমন অভিযোগে প্রতিবেদকদ্বয় সরেজমিনে ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর ১১.৩০টায় ও ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ১১:৪০ টায় তার রেজিস্ট্রি কার্যালয় গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায় নি।
অভিযোগে প্রকাশ দুপুর ১টায় তিনি অফিসে আসেন। এরপর বিকাল গড়িয়ে রাত হয়ে যায়।অফিসের একজন কর্মচারী জানান, স্যার সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অফিস করেছেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মচারী আরো জানান, তিনি প্রতিদিন দুপুর সাড়ে ১২ থেকে ১টার মধ্যে অফিসে আসেন।
মুঠোফোনে এসব বিষয় জানতে চাইলে সাব-রেজিস্ট্রার বুলবুল আহমেদ বেশ উদ্ধত্য স্টাইলে বলেন,”এসব ফালতু বিষয়ের জবাব ফোনে দেওয়ার সময় নাই”। যা বলবেন অফিসে এসে বলেন।
জেলা রেজিস্ট্রার আনোয়ারুল হক চৌধুরীর মন্তব্য নিতে তার ব্যবহৃত ০১৭১১-৫৬৭৪৩৩ ফোনে বক্তব্য নিতে গেলে ভুল নাম্বারে কল করেছেন বলে লাইনটি কেটে দেন। পরে আবারও একাধিকবার ফোন দিলে তিনি আর রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, জ্বালানি সংকটে সরকারের অফিস সূচী পরিবর্তন করে বর্তমান সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, ‘যেখানে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অফিস আদেশ রয়েছে’।
সাব-রেজিস্ট্রার বুলবুল আহমেদ সরকারের সেই আদেশটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে নিজের মনগড়া অনুযায়ী অফিস করছেন।