News update
  • গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উপর আরও জোর দেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান     |     
  • আহ্বায়ক টিএইচএম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন     |     
  • মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন- ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গর্ভনরেরা     |     
  • শিক্ষা উপদেষ্টার সাথে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি' আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ      |     
  • দেশে বছর দেড় লাখ মানুষ ক্যান্সার আক্রান্ত হচ্ছে- ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতামত      |     
খবর 2025-11-20, 10:17pm

হাবিপ্রবিতে সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ

1000014203-b828662ff6c42630ae2f3715d0b35ee01763655421.jpg


মো: আশফিকুর রহমান সরকার, হাবিপ্রবি: আর মাত্র দুইদিন তারপরই শুরু হতে যাচ্ছে  হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল আকাঙ্ক্ষিত দ্বিতীয় সমাবর্তন। উক্ত  সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ।  ইতিমধ্যে  পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক। সেইসাথে দ্রুত সময়ের মাঝে সম্পন্ন করা হচ্ছে নির্মাণাধীন রাস্তার কাজ। বর্ণিল আলোক সজ্জায় সেঁজেছে  গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। গাছগুলোতে করা হচ্ছে রঙ। সমাবর্তনের জন্য নির্ধারিত স্থানে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজয় -২৪ হলে সমাবর্তনের প্যান্ডেলের কাজ প্রায় শেষের দিকে।

শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে  দেখছে প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ। শিক্ষার্থীদের এই সমাবর্তনকে আরো স্মৃতিবহ করতে এবং উৎফুল্ল করতে আসছে শিরোনামহীন ব্যান্ড। সবকিছু মিলে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের হাওয়া বইছে। এদিকে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন সমাবর্তনকে সফল করতে। এই সমাবর্তন শুধু গ্রাজুয়েটদের নয় বর্তমান অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের মাঝেও আনন্দের সঞ্চার করেছে।

উক্ত সমাবর্তন নিয়ে হাবিপ্রবি উপাচার্য ও আয়োজক কমিটির সভাপতি  প্রফেসর ড.  মো. এনামউল্যা বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং চাওয়া ছিল যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরে মাত্র একবার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।  আমরা সমাবর্তনের আয়োজন হাতে নিয়েছি। সকল ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।  আমরা আগামী ২২ তারিখ গ্রাজুয়েটদের একটি সুন্দর সমাবর্তন দেওয়ার অপেক্ষায় আছি। আশা রাখছি আমরা সুন্দরভাবে উক্ত আয়োজন সম্পন্ন করতে পারবো। সমাবর্তনের আয়োজন করতে যারা এ যাবৎ  সাহায্য করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং শেষ পর্যন্ত সমাবর্তন সাফল্যন্ডিত করতে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

ফুড প্রসেস এন্ড  ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী রায়হান আবেদীন বলেন, অনেক দিন হয় ক্যাম্পাস ছেড়ে এসেছি বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দেখা হয় না অনেক দিন। সমাবর্তন উপলক্ষে সবার সাথে দেখা হবে ভাবলেই মনের মধ্যে অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছে। ক্যাম্পাসের কত স্মৃতি মনে পড়ছে সবই এখন অতীত। তবে জিয়া হলের আমাদের রুমের জুনিয়রেরা আমাদের প্রাক্তনদের থাকার জন্য সুন্দর ব্যাবস্থা করেছে জেনে খুবই ভালো লেগেছে।

এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য মাননীয়  উপাচার্য  এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। 

কৃষি অনুষদের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী সুস্মিতা আওয়াল উর্মি বলেন, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় সমাবর্তন আমাদের সবার জন্য এক বিশেষ এবং আবেগঘন মুহূর্ত। এই দিনটি শুধু একটি সনদ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের চার বছরের পরিশ্রম, স্বপ্ন, সংগ্রাম এবং সাফল্যের গর্বিত স্বীকৃতি। ক্যাম্পাসের স্মৃতি, বন্ধুদের সাথে অসংখ্য হাসি-খুশি দিন, শিক্ষকদের স্নেহময় দিকনির্দেশনা সবকিছু যেন আজ নতুন করে হৃদয় স্পর্শ করে। সমাবর্তন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জীবন এখন নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। যেখানে দায়িত্ব আরো বড়, স্বপ্ন আরো বিস্তৃত, এবং সম্ভাবনা অসীম। এই মহিমান্বিত অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত, আবেগাপ্লুত এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রাণিত। দীর্ঘদিন পর হলেও বর্তমান প্রশাসন এই আয়োজন হাতে নিয়েছেন তার জন্য মাননীয় উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়।

মার্কেটিং বিভাগের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাবেয়া বসরী আনিকা বলেন, ভার্সিটি ভালো লাগে না, ভালো লাগে না বলতে বলতে কখন যে গ্রাজুয়েশন শেষ হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি! এখন দূরে থাকায় মনে হচ্ছে—লাইফের সবচেয়ে সুন্দর একটা সময় শেষ করে চলে এসেছি। আমরা সত্যিই লাকি যে গ্রাজুয়েশন শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই কনভোকেশন পাচ্ছি।

কোনভাবেই যেন  লাস্ট মোমেন্টে ছুটি ক্যানসেল না হয় এজন্য এক মাস আগেই অফিসে জানিয়ে রেখেছিলাম। ক্যাম্পাসে ডেকোরেশন, সবার স্টোরি, ফেসবুকে পোস্ট  এসব দেখে মন পুরোপুরি ক্যাম্পাসে চলে গেছে। কনভোকেশনের বাহানায় আবার সবার সাথে দেখা হবে, দুই দিনের জন্য হলেও নিজের আগের লাইফ ব্যাক পাবো ভেবেই অনেক বেশি এক্সাইটমেন্ট কাজ করছে। আশা রাখছি সবার সাথে দিনটি সুন্দরভাবে উদযাপন করতে পারবো।

বর্তমান অধ্যয়নরত ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফাহমিদ তানজিম ফাহিম বলেন, প্রায় অনেক দিন পর হতে যাচ্ছে হাবিপ্রবিয়ানদের মিলন মেলা। আগামী ২১ তারিখে হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় কনভোকেশন। এতে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে হাবিপ্রবি । অনেক দিন পর ক্যাম্পাসের সিনিয়র ভাই আপুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারব। নিজের ভিতরে একটা আলাদা অনুভূতি কাজ করছে। আমি অনেক বেশি উদ্দীপ্ত যে অনেক দিন পর ভাইদের সাথে স্মৃতিচারণ করতে পারব। এমন আয়োজনের জন্য মাননীয় উপাচার্য মহোদয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ না দিলেই নয়।