News update
  • হাবিপ্রবিতে চুরির অপবাদ দিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ সিনিয়রের বিরুদ্ধে ; অভিযুক্তের অস্বীকৃতি      |     
  • শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে হাবিপ্রবি ছাত্রদল নেতা ফাহিমের নেতৃত্বে বৃক্ষরোপণ      |     
  • হাবিপ্রবিতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন কর্তৃক শিশুদের মাঝে বৃক্ষ বিতরণ      |     
  • মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শাতিল ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের অভিযোগ     |     
  • প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, নিরাপত্তা চাইলেন সম্পাদক জাবেদ আলম কিরণ     |     
খবর 2026-06-27, 6:58pm

হাবিপ্রবিতে চুরির অপবাদ দিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ সিনিয়রের বিরুদ্ধে ; অভিযুক্তের অস্বীকৃতি

img-20260627-wa0016-7c459b8e1264acb8b9ea7cdc3cbf65381782565106.jpg


মো: আশফিকুর রহমান সরকার, হাবিপ্রবি:  চুরির অপবাদ দিয়ে জুনিয়রের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে দুই সিনিয়রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি)।

বিশ্বিবদ্যালয়টির এগ্রিকালচারাল এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী দারুস সালাম রাতুলের কাছ থেকে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রনিক এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আরিফ হাসনাত ও ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদের ২৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেফতাউল ইসলাম মেজবাহ এর বিরুদ্ধে। 

মোবাইল চুরির বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দারুস সালাম রাতুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন।সেই ফেসবুক  পোস্টের বরাত দিয়ে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ১৪ জুন রাতে।সেদিন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আরিফ হাসনাত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাতুলের মেসে থাকেন।সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তাঁদের দুজনের মোবাইল ফোন হারিয়ে গেছে।পরবর্তীতে তারা থানায় জিডি করেন।

এই বিষয়ে  ঘটনার বর্ণনা দিয়ে  এগ্রিকালচারাল এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৫ তম ব্যাচের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দারুস সালাম রাতুল বলেন, ১৪ জুন আমার মেসে আরিফ হাসনাত ভাই আসেন।তিনি শহীদ আবরার ফাহাদ হলে থাকেন। 

তিনি বলেন যে হলে তো একটু ঝামেলা চলতেছে রাতে থাকার জায়গা নেই। আমি তোর এখানে থাকবো।তার সাথে যেহেতু আমার ভালো সম্পর্কে তাই আমার রুমমেট না থাকায় তাকে থাকতে দেয়।

আমি রাতে আগেই ঘুমিয়ে যায় আরিফ ভাই পরবর্তীতে ঘুমাই।তিনি আমাকে ঘুম থেকে তুলে বলেন তার ফোন হারিয়ে গেছে এবং আমাকে আমার ফোন দেখতে বলেন। আমার ফোন হাতিয়ে দেখি আমারও ফোন নেই।তার একটি আইফোন, একটি এন্ড্রয়েড এবং আমার রিয়েলমি ৯ মডেলের একটি ফোন হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে দেখি আমাদের মেসের গেইটে তার আইডি কার্ড,স্টুডেন্ট আইডি কার্ড এবং ব্যাংক কার্ড রেখে গেছে।পরবর্তীতে আমরা আমাদের ফোন হারানোর জিডি করি।আমি আমার ফোনের জিডি করি। কিন্তু তিনি শুধু তার আইফোনের জিডি করেন। ভাই বলেন যে,আইফোন সহজে ট্র্যাক করা যায়। কয়েকদিন পরে এন্ড্রয়েডের জিডি করেছে।আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করি। কিন্তু গলিতে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা না থাকায় সেটি সম্ভব হয় না।পরবর্তীতে জানতে পারি অনন্যা ভিলা নামের একটি মেসে একই কায়দায় ফোন ছিনতাই হয়। কিন্তু আরিফ ভাই, মেজবাহ ভাই সহ কয়েকজন মেসে এসে আমাকে নানাভাবে ভয় দেখায়।

রাতুল আরও বলেন, গত ২২ জুন রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে আরিফ ভাই আমার বন্ধু সিজানকে ফোন করে বলেন যে, থানায় ফোন উদ্ধারের বিষয়ে যেতে হবে।আমি ও আমার বন্ধু একসাথে যেতে চাইলে আমার বন্ধুকে উঠতে নিষেধ করে।বলে যে,তোর মেজবাহ ভাইকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে হবে।পরবর্তীতে আমরা দিনাজপুর মেডিকেলের দিকে যায়।সেখানে দেখি মেজবাহ ভাই তার বাইকে সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী  তার এক বন্ধুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, দুই বাইক একসাথে থানার দিকে না এসে মেডিকেল থেকে নির্জন জায়গায় গেল।সেখানে গিয়ে আমাকে নানা প্রশ্ন শুরু করলো।আমার উপর চুরির দায় চাপিয়ে দিয়ে বলে যে,স্বীকার কর তুই চুরি করেছিস।আমি এ বিষয়ে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে পাইপ দিয়ে পেটায়।মেজবাহ ভাই বলতে থাকেন যে,আমাকে চিনিস আমি কে? বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি এত কিছু এত সহজে এমনি এমনি পাইনি।আমার নামে মার্ডারের মামলা আছে।আমার সাথে পাঙ্গা নিতে আসলে খবর আছে।নানামুখী জেরার এক পর্যায়ে তারা আমার থেকে দশ হাজার টাকা দাবি করেন। 

 তিনি বলেন, তারা আমাকে বলে এই টাকা দিলে মোবাইল চুরির বিষয় নিয়ে আর কোনকিছু হবে না।তুই তোর মতো থাকবি আমরা আমাদের মতো।এক পর্যায়ে তারা আমাকে গালিগালাজ করে বলে যে আমি ফোন চুরি করে নাটক করতেছি।আমাকে দিয়ে বাড়িতেও ফোন করায়।যখন কোনো টাকা দেওয়ার পরিস্থিতিতে থাকি না তখন আমাকে আবার রাস্তার পাশে এনে স্থানীয় ছেলেদের হাতে দিয়ে বলে এই মোবাইল চুরি করেছে।তখন স্থানীয় ছেলেরা বলে যে কোনো ডিমান্ড করেছে কি? কোনো ডিমান্ড করে থাকলে দিয়ে দে, আর তুই চলে যা। কোনোভাবেই যখন তারা আমার থেকে টাকা পায় না তখন তারা আমাকে বলে যে, তোকে ছেড়ে দিতে পারি একটা শর্তে। এই ঘটনা ক্যাম্পাসের কেউ যেন না জানে।আমরা এইভাবে কয়েকজনকে টার্গেট করেছি।তাঁদেরকেও শহরে আনবো এবং টাকা নিবো তোকেও কমিশন দেওয়া হবে।আমি তখন নিজেকে নিরাপদ রাখার জন্য তাঁদের কথায় সুর মিলাই।পরবর্তীতে আমাকে বাইকে করে ক্যাম্পাসে রেখে যায়।আমি তৎক্ষনাৎ ঘটনাটি আমার বিভাগের সবাইকে জানাই,বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টীমকেও জানাই। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে যায়। তারা আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এম্বুলেন্সে করে দিনাজপুর মেডিকেলে পাঠিয়ে দেন।

বিচার দাবি করে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী  বলেন, আমরা অনেক দূর থেকে এখানে পড়তে এসেছি।যদি স্থানীয় ছেলেরা প্রভাব খাটিয়ে আমাদের এভাবে হেনস্তা করে তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? এখনো তারা আমাকে বহুভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকরা আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক। বিজ্ঞ প্রশাসনের কাছে আমি সুবিচার প্রত্যাশা করছি।যেন আমার মতো কোনো শিক্ষার্থী এমন হেনস্তার শিকার না হয়।

এ বিষয়ে ইলেক্ট্রনিক এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৪ তম ব্যাচের অভিযুক্ত  শিক্ষার্থী আরিফ হাসনাত বলেন আমি ব্যাস্ত আছি এ বিষয়ে মেজবাহ কথা বলবে। 

মোবাইল চুরি ও মুক্তিপণের বিষয়ে  ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদের ২৪ তম ব্যাচের অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মেফতাউল ইসলাম মেজবাহ ভুক্তভোগীর অভিযোগকে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, মোবাইল টা চুরি হয়েছিল ১৪ জুন তখন তো আমি সেখানে ছিলাম না।পরে তারা থানায় জিডি করে।আরিফ বলতেছিল যে রাতুলে ওপর তার সন্দেহ আছে।তাই আমরা তার সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিলাম। পরবর্তীতে জিডিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ বলেছিলেন যাকে সন্দেহ করে তাকে যেন নিয়ে আসে।কারণ তার সাথে কথা বললে পুলিশের কাজ করতে কিছুটা সুবিধা হবে।তারা আসতে আসতে পথিমধ্যে সিদ্ধান্ত নেয় তারা থানায় যাবে না। এবং আমাকে বলে আমি যেন তাঁদের সাথে ক্যাম্পাসে যায়।আমিও তাঁদের সাথে ক্যাম্পাসে যাওয়ার স্বীকৃতি জানাই।

মেজবাহ বলেন, এমনিতেই কথা বলার জন্য আমরা বাইকে করে ৮ নং গেইটের দিকে যায়। সেটা মেডিকেল থেকে সর্বোচ্চ আধা কিলোমিটার দূরে।যেহুতু আরিফ তাকে সন্দেহ করে আসছিল তাই আমরা তাকে কিছু প্রশ্ন করি।তাকে কোনরকমের শারীরিক আঘাত করা হয়নি।আর আমার বিষয়ে যেটা বলেছে যে, আমি বলেছি মার্ডারের মামলার আসামি আমি, এই কথাটি ভিত্তিহীন। আমি এমন অভিযোগ অস্বীকার করছি।

তিনি আরও বলেন, তার কাছে কোনো মুক্তিপণ চাওয়া হয়নি।তবে সে আসলেই মোবাইল চুরি করেছে কিনা এটি যাচাইয়ের জন্য একটি ফাঁদ তৈরি করেছিলাম।তারই অংশ হিসেবে আরিফকে ফাঁকে রেখে এসে আমি একাই বলেছিলাম যে,আমাকে তুই কিছু টাকা অফার কর যেন আমি আর এই ঝামেলায় না থাকি।দুইটা ফোন থেকে তো এক লক্ষ টাকা প্রফিট করবি তুই।তো আমাকে কিছু দিয়ে দে তাহলে আমি আর এই ঘটনার আগে পিছে থাকবো না।যদি সে টাকা দিতে রাজি হতো তাহলে বুঝতাম সেই আসলে মোবাইল নিয়েছে। পরবর্তীতে আমরা রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে আসি।সেখানেই আমার সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু আসে।সে এমন ঘটনা শুনে সেও কিছু প্রশ্ন করে।ঘটনা এতদূর পর্যন্তই। তার সাথে খারাপ কিছু করা হয়নি।পরে তাকে আরিফ বাইকে করে ক্যাম্পাসে রেখে আসে।আমরা তাকে কোনরকম হুমকি দেয়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ এসেছে।আমরা প্রাথমিকভাবে দুই পক্ষের থেকে ঘটনার বিবরণ শুনেছি।আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।