
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি। গলাচিপা-দশমিনার (পটুয়াখালী-৩) রাজনীতির আকাশ আজ ষড়যন্ত্রের কালো মেঘে ঢাকা। যে মাটি একসময় আওয়ামী লীগের অভেদ্য দুর্গ ছিল, সেই দুর্ভেদ্য দুর্গকে তিল তিল করে ভেঙে চুরমার করে জাতীয়তাবাদের শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য(সাবেক) জনাব হাসান মামুন।
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমল ছিল এক বিভীষিকা। শত শত মামলা, হামলা আর প্রতিকূলতার মাঝেও হাসান মামুন এর নেতৃত্বে গলাচিপা-দশমিনার রাজপথ কখনো খালি হয়নি। শত বাধা পেড়িয়ে তাঁর নির্দেশনায় বিএনপির প্রতিটি প্রোগ্রাম সফল হয়েছে। অথচ আজ কত বড় আক্ষেপের বিষয়—দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর, যখন বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার কথা, তখন গত ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ব্যানারে একটি র্যালি পর্যন্ত বের হলো না! এ দিবসকে কেন্দ্র করে গলাচিপার রাজনীতিতে ব্যাপক পরিসরে আলোচনা ও সমালোচনার জম্ন দিয়েছে।
কেন এই স্থবিরতা? উত্তরটা স্পষ্ট। দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা হাসান মামুন এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন কর্মীদের বাদ দিয়ে এক নবাগত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও গণ অধিকার পরিষদের লোকজন। যারা রাজপথের সংগ্রাম বোঝে না, যাদের রক্তে জাতীয়তাবাদের চেতনা নেই, তারা কীভাবে শহীদ জিয়ার আদর্শ লালন করবে?
হাসান মামুনকে মাইনাস করে এবং তৃণমূলের কর্মীদের বুক খালি করে যে পকেট কমিটি করা হয়েছে, তা আসলে বিএনপিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়ার এক গভীর নীলনকশা। নতুন কমিটিতে অন্যদলের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে জাতীয়তাবাদী দলকে দুর্বল করার এই খেলা অবিলম্বে বন্ধ হোক এমন প্রত্যাশা তৃণমূল বিএনপি'র ত্যাগী কর্মীদের।
কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি তাদের আকুল আবেদন—তৃণমূলের পালস বুঝুন। আওয়ামী লীগের দোসরদের দিয়ে গড়া এই তথাকথিত কমিটি দিয়ে দল বাঁচানো যাবে না। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির প্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনতে এবং দলকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে হাসান মামুনকে আবারও এই জনপদে সক্রিয় ব্যতীত কোনো বিকল্প নেই এমন মন্তব্য করেন স্থানীয়রা।